যশোরে ভৈরব নদের ৩টি সেতু পুনর্নির্মাণে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভৈরব নদ সংস্কারে অনিয়ম ও সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘনের সুষ্ঠু তদন্ত ও নীতিমালা অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলন। সোমবার সকালে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা যশোর কালেক্টরেট ভবনে গিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে নদের ওপরের ৩টি সেতু নির্মাণ কাজ বন্ধ করে নীতিমালা অনুযায়ী নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান নদী প্রবাহ হয় ভৈরবে। ভৈরব নদ সংস্কারে সরকার ২৭২ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সে সংস্কার কাজ সমাপ্তি ঘোষণা করেছে। লক্ষ্য ছিল নদকে প্রবাহমান করা ও নৌ-চলাচলের উপযোগী করা এবং উজানে মাথাভাঙ্গা ভৈরব সংযোগ প্রদান করে স্থায়ী নদী প্রবাহ নিশ্চিত করা। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড উজানে সংযোগের জন্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে যা প্রক্রিয়াধীন।
কিন্তু নদের ওপর ৫১টি সংকীর্ণ ব্রিজ-কালভার্ট রয়েছে। নদের নাব্য ও নৌ-চলাচল উপযোগী করতে সেগুলো বিআইডব্লিউটিএ-র প্রণীত নীতিমালা অনুযায়ী পুনর্নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও সরকারের এসব নীতিগত সিদ্ধান্ত বানচাল ও সরকারি অর্থ অপচয় করার ষড়যন্ত্র করছে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, ইতিমধ্যে যশোর সদর উপজেলার দায়তলা, ছাতিয়ানতলা ও রাজারহাটে ৩টি সেতু পুনর্নির্মাণে বিআইডব্লিউটিএ-র নীতিমালা লঙ্ঘন করে নির্মাণ কাজ চলছে। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের আপত্তি, দৈনিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় এ অনিয়মের সংবাদ প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষ তা কর্ণপাত করছে না।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, নদী রক্ষা কমিশনের সভাপতি এবং নৌপথে ব্রিজ নির্মাণ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের ভূমিকা পালনের দায়িত্ব রয়েছে। তাই অবিলম্বে ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলন ও অববাহিকার জনগণের পক্ষ থেকে ৩টি সেতু নির্মাণ কাজ বন্ধ করে নীতিমালা অনুযায়ী নির্মাণে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন- ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলন কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, সদস্য নাজিম উদ্দিন, হারুন অর রশিদ, জিল্লুর রহমান ভিটু, মোস্তাফিজুর রহমান বাবর, হাসান আলী, সুকদেব বিশ্বাস প্রমুখ।