বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭৯তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৫ সালের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জন্মদিনের এই লগ্নে বিএনপি প্রধান অসুস্থ হয়ে গত ১০ আগস্ট থেকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খালেদা জিয়ার পৈত্রিক বাড়ি ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। তার বাবা এস্কান্দার মজুমদার চাকরিজীবী ছিলেন। মা তৈয়বা মজুমদার ছিলেন দিনাজপুরের চন্দন বাড়ির মেয়ে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে খালেদা জিয়া তৃতীয়। ১৯৬০ সালের আগস্টে বগুড়ার ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত সেনাকর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সাথে তিনি বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বেগম জিয়ার দুই সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে তারেক রহমান বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন এবং ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ইন্তেকাল করেছেন। তারেক রহমানের ঘরে তার এক নাতনি জাইমা ও আরাফাত রহমানের ঘরে জাফিয়া ও জাহিয়া নামে দুই নাতনি রয়েছে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে দেশী-বিদেশি চক্রান্তে বিপথগামী সৈন্যদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। এর পরপরই জিয়াউর রহমানের গড়া বিএনপির রাজনীতিতে আগমন ঘটে খালেদা জিয়ার। দলের নেতাকর্মীদের দাবির মুখে ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হন। ১৯৮৩ সালের মার্চে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ’৮৪ সালের ১২ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ১৯৮৪-এর ১ মে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী দীর্ঘ আপসহীন আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এ পর্যন্ত তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন খালেদা জিয়া। ১৯৯৩ সালে তিনি সার্কের প্রথম মহিলা চেয়ারপারসন হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট নির্বাচনে জয়লাভের পর তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে। ওয়ান-ইলেভেনের পর মইন-ফখরুদ্দীন সরকার ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাকে কারাবন্দী করে। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কারাভোগ করেন তিনি। সেবার কারাগারে প্রথম জন্মদিন কেটেছে তার। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার অনড় মনোভাবের কারণে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় ওই সরকার। পরে তারা নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেয়। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কাঙ্খিত ফল না পেয়ে সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়। সেই থেকে সরকারি দলের দমন-পীড়ন ও মামলা-হামলার বৃত্তে বন্দী দেশের অন্যতম বৃহৎ এই রাজনৈতিক দল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন বর্জন করে দলটি। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা হয় বেগম জিয়ার।
করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয় সরকার। তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং বিদেশ যেতে পারবেন না, এমন শর্তে সাজা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই থেকে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে লিভার সিরোসিস, হার্ট জটিলতাসহ নানা রোগে চিকিৎসা নেন তিনি।
আজ জন্মদিনের দিনও বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ১০ আগস্ট স্বাস্থ্যের পরীক্ষা করাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান তিনি। সেদিনই চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
২০১৬ সাল থেকে প্রথম প্রহরে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপনের যে ধারা তৈরি হয়েছিলো, তা বেগম জিয়া নিজে বন্ধ করে দেন।
নেতারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার ৭০তম জন্মদিন সিদ্ধান্ত হয় এরপরের জন্মদিনগুলোতে ১৫ আগস্ট তিনি আর কেক কাটবেন না। কেক কাটার পরিবর্তে মিলাদ মাহফিল ও জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুযায়ী ২০১৬ সালের ১৫ আগস্ট ৭১তম জন্মদিনে কেক না কেটে সকালে জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত ও মিলাদ মাহফিল করা হয়। ২০১৮ সাল পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত ছিল। এরপর ২০১৯ সালের ৭৫তম জন্মদিনে ১৫ আগস্টের পরিবর্তে ১৬ আগস্ট জন্মদিন উপলক্ষে মাজার জিয়ারত ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, মূলত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে জন্মদিন পালনের বির্তক থেকে বেরিয়ে আসতে একদিন পিছিয়ে ১৬ আগস্ট জন্মদিনের কর্মসূচি পালন শুরু করে দলটি।
এবছর নেত্রী হাসপাতালে ভর্তি এবং দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকায় ও নেতা-কর্মীরা খুন, গুম ও কারান্তরীণ থাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে কোন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি জন্মদিন উপলক্ষে। তবে স্ব-স্ব ইউনিট নিজ উদ্যোগে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে বলে জানা গেছে।