মনিরামপুরে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষক করলা চাষে আগ্রহী

0

ওসমান গণি. রাজগঞ্জ (যশোর) ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের রামপুর এলাকার কৃষকরা করলা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। ক্ষেত থেকে করলা সংগ্রহ করে হাট-বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে চাষিরা মাচার পাশে স্তূপ করে রাখছেন।
সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের রামপুর-শাহপুর গ্রামের বেশ কয়েকজন কৃষক স্থানীয় পাইকারসহ হাট-বাজারে বিক্রির জন্য ক্ষেত থেকে করলা সংগ্রহ করছেন। এরপর সেগুলো ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে ক্ষেত থেকেই পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন।
চলতি মৌসুমে করলার বাম্পার ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ফলে তিতা স্বাদের করলা মশ্মিমনগর ইউনিয়নের রামপুর-শাহপুর গ্রামের চাষিদের মুখে মিষ্টি হাসি এনে দিয়েছে। এ উপজেলার উৎপাদিত করলা এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করায় অনেকটা লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা।
এ অঞ্চলের চাষিরা তাদের উৎপাদিত করলা এবং নানান সবজি নিয়ে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার আসেন রাজগঞ্জ বাজারে। ক্রেতারা চাষিদের কাছ থেকে বিভিন্ন দামে করলা ও সবজি কেনেন। ওই করলা এবং অন্যান্য সবজি ট্রাক ও পিকআপে ভরে ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ মোকামে পাঠিয়ে দেন। প্রতিমণ করলা বর্তমান বাজারে বিক্রি ১৬শ থেকে ১৮শ টাকা।
রাজগঞ্জ বাজারে আসা ঢাকার ব্যবসায়ী আলী হোসেন ও আকবার আলী জানান, মনিরামপুর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের করলাসহ যাবতীয় সবজির গুণগত মান অনেক ভালো। রাজগঞ্জ বাজার থেকে করলা ও যাবতীয় সবজি কিনে লাভ বেশ ভাল পাওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে এখানকার করলা ও নানান সবজি রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজারে সরবরাহ করে আসছেন।
মশ্মিমনগর ইউনিয়নের রামপুর-শাহপুর গ্রামের চাষি জাহাঙ্গীর আলম জানান, এক যুগ ধরে তিনি করলাসহ যাবতীয় সবজি চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে তিনি ৪৮শতকের দেড় বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল করলার চাষ করেছেন। চলতি মৌসুমে শ্রমিকসহ তার খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। তিনি বাজারে এ পর্যন্ত করলা বিক্রি করেছেন ২লাখ ৩০হাজার টাকা। করলা চাষ করে তার ২লাখ টাকা লাভ হয়েছে বলে জানান এ কৃষক।
মনিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বৃহত্তর এ উপজেলায় ২২ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল করলার চাষ হয়েছে। যা গত মৌসুমের চেয়ে ২ হেক্টর বেশি। করলার বাম্পার ফলন ও বাজারদর বেশ ভাল পাওয়ায় এবার কৃষকেরা অনেকটা লাভবান হয়েছেন। যে কারণে করলা চাষের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
মশ্মিমনগর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান জানান, যেখানে পানি জমে না এমন উঁচু বা মাঝারি জমির দোঁআশ মাটিতে করলার ফলন ভালো হয়। চলতি মৌসুমে এ ইউনিয়নে করলার বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকেরা বাজারে ভালো দামও পেয়েছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ পশ্চিমাঞ্চলের কৃষকদের ভালো ফলনের জন্য সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে আসছেন বলে জানান এ কৃষি কর্মকর্তা।