যশোরে সামুদ্রিক মাছের চাহিদা বেড়েছে

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ।। ইলিশের আকালের কারণে অন্যান্য মাছের সাথে সামুদ্রিক মাছের চাহিদা বেড়েছে যশোরে। মাছ ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য বছর আষাঢ় মাসে বড়বাজারে প্রচুর ইলিশের সরবরাহ থাকে। ফলে জেলেরা লোকসানের আশঙ্কায় এ সময় অন্যান্য মাছ ধরা থেকে বিরত থাকেন। তবে চলতি বছর ভরা মৌসুমেও ইলিশের স্বল্পতার কারণে বাজারে চাহিদা থাকায় জেলে এবং ব্যবসায়ীরা বেশি দামে অন্যান্য ও সামুদ্রিক মাছ বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছেন।
বর্ষার এই ভরা মৌসুম আষাঢ় মাসের শেষ সপ্তাহেও মোকামগুলোতে ইলিশ মাছের দেখা মিলছে না। মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন নদীর তলদেশে পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়ায় ইলিশের দেখা মিলছে না। তবে মৎস্য সম্পদ সুরক্ষা ও বংশবিস্তারে বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ আগামী ২৩ জুলাই শেষ হলে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে ইলিশ মাছের স্বল্পতার কারণে যশোরে অন্যান্য মাছ ও সামুদ্রিক মাছের প্রচুর চাহিদা বেড়েছে। শুক্রবার (৭ জুলাই) সকালে বড়বাজার মাছবাজার ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য মাছের সাথে সমানতালে আমদানি করা ভারতীয় সামুদ্রিক মাছ বিক্রি হতে। এক সময় যশোরের মানুষ সামুদ্রিক মাছ কিনতে চাইতেন না। কিন্তু সামুদ্রিক মাছে স্বাদের চেয়ে উপকারিতা বেশি থাকায় এর গুরুত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। সামুদ্রিক মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ডি থাকে যা অনেক জটিল রোগ থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করে থাকে। এসব কারণে চিকিৎসকরা এ মাছ বেশি বেশি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
ফলে যশোরের মানুষের সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার চাহিদা বেড়েছে। আর বাজারে ইলিশের ঘাটতি থাকায় অন্যান্য মাছ ও সামুদ্রিক মাছের দামও বেড়েছে। বর্তমানে দেশে সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় ভারত থেকে আমদানি হয়ে যশোরে সামুদ্রিক মাছ আসছে। শুক্রবার বড়বাজার মাছবাজারে খুচরা বিক্রেতা শেখ শাহাবুদ্দিনকে শুধুমাত্র সামুদ্রিক মাছ বিক্রি করতে দেখা যায়। তিনি এদিন লাল রঙের সামুদ্রিক আমোদি মাছ প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, সাগর মায়া ১৬০ টাকা, রুপচাঁন্দা ১০/১২ টায় কেজি ৫৫০ টাকা, ৩টায় কেজি সুরমা ২৫০ টাকা, ২টায় কেজি মেদ ২৮০ টাকা, ২টায় কেজি ভোলা পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, দিন দিন বাজারে সামুদ্রিক মাছের চাহিদা বাড়ছে। আর যশোরবাসীর আগ্রহের দিকে লক্ষ্য রেখে আমদানিকারকরা দেশের অন্যান্য স্থানে সরবরাহের পাশাপাশি যশোরেও সামুদ্রিক মাছের যোগান দিচ্ছেন।
শুক্রবার সামুদ্রিক মাছ কিনতে আসা ক্রেতা শহরের চুড়িপট্টির শেখ মতিয়ার রহমান কুরবান জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ হচ্ছে সুস্থতার জন্য বেশি বেশি করে সামুদ্রিক মাছ খেতে হবে। তাই বাজারে প্রচুর সরবরাহ থাকায় তিনি প্রায়শই এ মাছ কেনেন এবং তার পরিবারের সদস্যরা সামুদ্রিক মাছ খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন।
এদিকে বড়বাজার মাছবাজারে সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি অন্যান্য মাছও চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। গতকাল শুক্রবার দেড় কেজি ওজনের রুই ও কাতল মাছের কেজি ৩৫০ টাকা, ৫ কেজি ওজনের রুই ৬০০ টাকা, বাটা মাছ ৪২০ টাকা, বাইন মাছ ১ হাজার টাকা, টেংরা মাছ ৭০০ টাকা, চিংড়ি মাছ ৭০০ টাকা, গুতে মাছ ১২শ টাকা, চাষের পাবদা মাছ ৩০০ টাকা, চাষের কৈ মাছ ২৫০ টাকা, চাষের মাগুর মাছ ৪৫০ টাকা, চাষের শিং মাছ ৪৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
দেশের নদ-নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়ায় বরিশাল, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার মোকামগুলো প্রায় ফাঁকা হয়ে আছে। জেলেদের জালে যৎসামান্য যে ইলিশ ধরা পড়ছে তা বিক্রি করতে যশোরের মোকাম পর্যন্ত ঠিকমত পাঠাতে পারছেন না ওখানকার ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে থেকেও স্বল্প পরিমাণে ইলিশ যশোর বড়বাজারে বিক্রি করতে পাঠাচ্ছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। তবে এর দামও আনেক বেশি।
শুক্রবার বড়বাজার মাছবাজারে খুচরা ইলিশ বিক্রেতা এরশাদ আলী এ প্রতিবেদককে জানান, তিনি এদিন নদীর দেড় কেজি ওজনের ইলিশের কেজি ২৮শ টাকা, এক কেজি ইলিশ ২ হাজার টাকা, ৭৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১৬শ টাকা, ও ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১৩শ টাকায় বিক্রি করেছেন। আর সাগরের ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১৫শ টাকা ও ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১৩শ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তিনি আরও জানান, আগামী ২৩ জুলাই বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে এবং দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।