পুঁজি সংকটে খুলনার চামড়া ব্যবসায়ীরা

0

মো. জামাল হোসেন, খুলনা॥ ঈদুল আজহায় খুলনার ব্যবসায়ীরা দেড় কোটি টাকার চামড়া কেনার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। ইতিমধ্যেই খুলনার চামড়া পট্টিখ্যাত শেখপাড়ায় চলছে ঘর তৈরিসহ অন্যান্য কাজকর্ম।
অপরদিকে, ট্যানারি মালিকদের কাছে বিগত বছরগুলোতে তাদের পাওনা দেড় কোটি টাকা এখনও বকেয়া রয়েছে। সেই টাকা হাতে না পাওয়া এবং এবার লবণসহ চামড়া সংরক্ষণে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পুঁজি সংকটে পড়েছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। ফলে অনেকেই এ ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়েছেন। আর যারা দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য হিসেবে এ ব্যবসায় টিকে রয়েছেন- তারাও এবার ধার-দেনা করে চামড়া কেনার প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অপরদিকে, খুলনায় গরু-ছাগলের চামড়া বেচা-কেনার জন্য দীর্ঘদিনেও গড়ে ওঠেনি কোনো বাজার। আগে নগরীর শেখপাড়া ও শেরে বাংলা রোডে চামড়া ব্যবসায়ীদের ১৫/২০টি দোকান থাকলেও তা তিন বছর আগে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে এবারের ঈদেও কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনা হবে রাস্তায়। এছাড়া লবণ লাগিয়ে চামড়াগুলো সংরক্ষণ করা হবে রাস্তার উপরেই। এর ফলে সড়কে দুর্গন্ধ ও যানজটের আশংকা রয়েছে।
খুলনা কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কার্তিক ঘোষ বলেন, গেল ঈদে খুলনার ব্যবসায়ীরা প্রায় ৮-১০ হাজার চামড়া কিনেছিলেন। যার আনুমানিক মূল্য কোটি টাকার মত। কিন্তু এবার দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় দেড় কোটি টাকার চামড়া বিকিকিনি হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। এবার ১৫/২০ জন ব্যবসায়ী ঈদের সময় শেরে বাংলা রোডে চামড়া কেনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, খুলনার বাজারে ঈদের সময় প্রায় ৮/১০ হাজার চামড়া বেচাকেনা হয়। কিন্তু কোনো মার্কেট না থাকায় তাদেরকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এছাড়া গত বছর ঈদের সময় খুলনার ব্যবসায়ীরা ট্যানারি মালিকদের কাছে যে চামড়া বিক্রি করেছিলেন তার সব টাকা এখনও পাননি। এর ফলে কেউ কেউ পুঁজি সংকটে রয়েছে।
সমিতির ক্যাশিয়ার মো. বাবর বলেন, ঢাকা, কুষ্টিয়া, নাটোর, যশোরের রাজারহাটসহ কয়েকটি ট্যানারী মালিকের কাছে খুলনার ৩০-৩৫জন ব্যবসায়ীর প্রায় দেড় কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। কিন্তু তারা সে টাকা পরিশোধ না করায় তারা পুঁজি সংকটে রয়েছেন। তারপরও ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ধারদেনা করে চামড়া কেনার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
তিনি জানান, গত বছর বস্তাপ্রতি (৬৫ কেজি) লবণের মূল্য ছিল ১১শ’-১২শ’ টাকা, এবার সেই লবণ বস্তাপ্রতি বেড়ে ১৪শ’-১৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে তাদের চামড়া সংরক্ষণে ব্যয়ও বেড়ে যাবে।
এদিকে শেখপাড়া বাজারের চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নগরীর শেখপাড়া বাজার ও পাশ্ববর্তী শেরে বাংলা রোডে চামড়া বেচাকেনার জন্য কমপক্ষে ১৫/২০টি দোকান ছিল। ওই দোকানগুলোতে বেচা-কেনার পাশাপাশি লবণ লাগিয়ে চামড়াগুলো অনেক দিন সংরক্ষণ করা হতো। পরে ট্যানারি মালিকরা কিনে নিয়ে যেতো। কিন্তু চামড়ায় লবণ লাগানোর সময় তা দোকান ঘরের মেঝে ও দেয়ালে লেগে যেতো। এতে দেয়ালের রঙ এমনকি পলেস্তারা খসে খসে পড়তো। চামড়ার দুর্গন্ধে আশপাশের দোকানিরাও বিরক্ত হতেন। এ অবস্থায় একে একে দোকান মালিকরা চামড়া ব্যবসায়ীদের দোকান ছাড়তে বাধ্য করেন। অন্যদের ভাড়া দিলেও তুলনামূলক ভাড়াও বেশি পাওয়া যায়। এ অবস্থায় ২০২০ সালের পর শেখপাড়া ও শেরে বাংলা রোডের চামড়াপট্টিতে চামড়া ব্যবসার আর কোনো দোকান নেই।
ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের কয়েকজন সারাবছর জবাই হওয়া গরু-ছাগলের চামড়া কিনে নগরীর জিরো পয়েন্ট ও গল্লামারী এলাকায় তাদের গোডাউনে নিয়ে লবণ লাগিয়ে সংরক্ষণ করেন। তবে ঈদের ৩ দিন সড়কের উপরেই সব কার্যক্রম চলে।
খুলনা কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম ঢালী জানান, খুলনার শেখপাড়া বাজারে আগে ৫০-৬০জন ব্যবসায়ী ছিল। কিন্তু ক্রমাগত লোকসানের কারণে বর্তমানে ১৫-২০জন কোন রকমে টিকে আছেন। ব্যবসায়ীরা এক প্রকার দেউলিয়া হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।