যশোরের বাজারে কাঁচা মরিচের ডবল সেঞ্চুরি আমদানির পরও কমেনি পেঁয়াজের ঝাঁজ

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ যশোরে কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২শ টাকা। বিক্রেতাদের দাবি প্রচন্ড গরমে মরিচের ফলন কম হয়েছে। এদিকে আমদানির পরও দেশি পেঁয়াজ ৭০ টাকার নিচে নামছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন মজুতদারদের কারসাজিতে দেশি পেঁয়াজের দাম কমছে না। সরকার ১২ দিন আগে বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটারে ১০ টাকা কমালেও বাজারে এর কোনও প্রভাব পড়েনি। বিক্রেতারা আগের বর্ধিত মূল্যেই বিক্রি করছেন। ভোক্তারা বলছেন পণ্যের দাম বাড়ার ঘোষণা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রেতারা দাম কার্যকর করে, অথচ দাম কমালে ঘটে এর উল্টো। শুক্রবার (২৩ জুন) যশোরের বড়বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়।
শুক্রবার বিক্রেতারা কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ২শ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি, আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। বড়বাজারের কালীবাড়ি মার্কেটের আড়তদার বাগান চন্দ্র সাহা এ প্রতিবেদককে বলেন, লাগাতার গরমে কৃষকের ক্ষেতের মরিচ গাছ শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া এ অঞ্চলে আসা ফরিদপুরের মধুখালী ও ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে প্রচুর কাঁচা মরিচ পাইকারি ব্যবসায়ীরা আরও বেশি দামে বিক্রির আশায় ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে হু হু করে দাম বাড়ছে। তিনি আরও জানান, কৃষকের ঘরে দেশি পেঁয়াজের মজুদ কমে এসেছে। যা আছে তা বড় ব্যবসায়ীরা মজুত করে রেখেছেন। সুযোগ বুঝে তারা একটু একটু করে বাজারে ছেড়ে বিক্রি করছেন। এসব কারণে আমদানির পরও বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসছে না বলে এই আড়তদার জানান।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশেও দাম কমিয়েছে। গত ১১ জুন বাণিজ্যসচিব তপন কুমার ঘোষ সবিালয়ে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটারে ১০ টাকা কমার ঘোষণা দেন। সেই মোতাবেক প্রতি লিটার বোতল ১৮৯ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। অথচ সরকার ১২ দিন আগে দাম কমালেও গতকাল শুক্রবারও বাজারে আগের বর্ধিত দামে ১৯৯ টাকায় সয়াবিন তেলের বোতল বিক্রি হতে দেখা যায়।
বড়বাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা মোহাম্মদ আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমদানি করার পরও আমাদের বেশি দামে দেশি পেয়াঁজ কিনতে হচ্ছে। অথচ দেশি পেঁয়াজের অবৈধ মজুত করে রেখেছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। তাছাড়া সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমালেও বিক্রেতারা সেই আগের দামেই বিক্রি করছেন। এসব দেখার যাদের দায়িত্ব তারা তৎপর হচ্ছেন না। সরকারের বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও জেলা কৃষি বিপণন অধিদফতরের কর্মকর্তারা নির্লিপ্ত থাকায় এসব মজুতদার ও অসাধু বিক্রেতারা ভোক্তাদের জিম্মি করে দাম হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।’