যশোরে শুরু হয়েছে প্রতিদিনের কোরবানির হাট

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ যশোরে শুরু হয়েছে প্রতিদিনের কোরবানির হাট। হাটগুলোতে বিপুল পরিমাণ পশু আসছে। ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারাও। ক্রেতারা বলছেন গরুর দাম বেশি। অপরদিকে বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা মতো দামে বিক্রি করতে গিয়ে বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। তবে থেমে নেই বেচাকেনা।
ঈদুল আজহা সমাগত। এর মধ্যে পছন্দের কোরবানির পশু খুঁজতে শুরু করেছেন গৃহস্ত। এ অবস্থায় প্রতিদিনের কোরবানির হাট  শুক্রবার (২৩ জুন) থেকে শুরু হয়েছে চৌগাছায়। শার্শার সাতমাইলে শুরু হবে আগামীকাল শনিবার থেকে। চৌগাছার হাটে শুক্রবার বিপুল পরিমাণ পশু আসে। দূর-দূরন্ত থেকে গরু নিয়ে হাটে আসেন মালিকরা। হাটে ছিল কোরবানিকে উপলক্ষ্য করে পালিত বৃহৎ আকারের গরুও। উপজেলার বাদে খানপুর গ্রাম থেকে হাটে বিশাল আকারের একটি গরু নিয়ে আসেন মন্টু মিয়া। তিনি বলেন, তার গরুর মাংশ হবে প্রায় ১৫ মণ। তিনি গরুটির দাম বলছেন ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রায় একই আকারের আরও একটি গরু নিয়ে হাটে আসেন উপজেলার খরিঞ্চা গ্রামের মতিউর রহমান। তিনি তার গরুর দাম চাচ্ছেন সাড়ে ৫লাখ টাকা। এ দামেই বিক্রি করবেন কিনা জানতে চাইলে উভয় গরুর মালিকই বলেন, শেষ পর্যন্ত ৫ পাঁচ লাখ কিংবা সাড়ে চার লাখ টাকা হলেও তারা তাদের গরু বিক্রি করতে চান।
হাটে ১০টি গরু নিয়ে আসা ব্যাপারী ঝিকরগাছার মধুখালী গ্রামের সনৎ দাস বলেন, গরুর দাম নেই। আজকের হাটে যে দাম তাতে বিক্রি করলে লস হবে।
আরও কয়েকজন গরুর মালিক বলেন, ক্রেতারা যে দাম বলছে তাতে তার গরু পালনের খরচই উঠবে না।
এদিকে ক্রেতারা বলছেন ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে গরু খুঁজতে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে থেমে নেই বেচাকেনা। পছন্দের গরুটি ঠিকই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন গৃহস্থ।
যশোর শহরের ইসলাম প্রায় দেড় ঘণ্টা হাটে অবস্থান করে নিজের চাহিদার দামের মধ্যে গরু কেনেন। তিনি বলেন, শুরুতেই দাম অনেক বেশি চাচ্ছে। দরদাম করেও গতবছরের চেয়ে একটু বেশি দামেই কিনতে হল একটি গরু। তিনি ৬০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছেন।
চৌগাছা হাটের ইজারাদার পৌরসভার প্যানেল মেয়র আনিসুর রহমান বলেন, আর ৫ দিন পর কোরবানির ঈদ। হাতে সময় কম। তাই প্রতিদিনই হাট বসছে চৌগাছায়। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার যাতে কোন ভোগান্তি না হয় সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ প্রশাসন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হক বলেন, যশোরে এ বছর কোরবানি উপলক্ষ্যে চাহিদার তুলনায় বেশি গরু রয়েছে। এ জেলার গরু যাচ্ছে জেলার বাইরেও। আশংকা নেই ভারতীয় গরু আসার।