শরণখোলায় সড়কে বাস পার্কিংয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা

0

আলী আকবর টুটুল, বাগেরহাট॥ পদ্মাসেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলে বেড়েছে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা। তবে বাড়েনি যাত্রী সেবার মান। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলায় যাত্রী ছাউনি ও স্থায়ী বাস টার্মিনাল না থাকায় ভোগান্তি হয় হাজার হাজার যাত্রীর। আঞ্চলিক মহাসড়কের দু’পাশে বাস পার্কিং করায় ঘটছে দুর্ঘটনা। তাই দ্রুত বাসস্ট্যান্ড নির্মাণে দাবি মালিক সমিতির নেতাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাগেরহাট জেলার সাইনবোর্ড-মোরেলগঞ্জ ও বগী আঞ্চলিক মহাসড়কের শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা এলাকায় সড়কের দু-পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস। সড়কের দুপাশে বাস পার্কিং করে থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পথচারী, পন্যবাহী ট্রাক ও বিভিন্ন ছোট-বড় যানবাহনের। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। শরনখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা এলাকা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিং, বগুড়া, খুলনা, বেনাপোলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন ৫০টির বেশি দূরপাল্লা যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে যায়। এছাড়া জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীবাহী বাস, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল চলাচল করছে। স্থায়ী বাস টার্মিনাল ও যাত্রী ছাউনি না থাকায় হাজার হাজার যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। রায়েন্দা বাসস্ট্যান্ডে পাশে আনোয়ার হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে।
ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদি বলেন, স্যাররা যখন পড়ান তখন বাসের হর্নের শব্দে কোন কিছুই শুনতে পাইনা। আমাদের পাঠদানে সমস্যা হয়।
উম্মে সালমা সুলতানা বলেন, দুপাশে পার্কি করা বাস থেকে যাত্রীদের ফেলা থুথু গায়ে পড়ে। আমরা এখান থেকে অন্যত্রে বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে নেয়ার দাবি জানাই।
বাসস্ট্যান্ডে দুর্ঘটনার শিকার স্থানীয় সাংবাদিক ও ইউটিউবার মো.শাহিন হাওলাদার বলেন, সম্প্রতি বাসস্ট্যান্ড থেকে মোটরসাইকেল যাওয়ার সময় দুপাশে পার্কি করা বাসের ঢাকনা উঠানোর সময় চোখের পাশে আঘাত লাগে। আমি এখন ঝাপসা দেখি। আমার মত অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
শরনখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন খান জাকির বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে, সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বাস টার্মিনালের জন্যে জমি বরাদ্দের দাবি জানিয়েছি।
মোরেলগঞ্জ -শরণখোলা -মংলা বাস মালিক সমিতি সভাপতি শামীম হাসান পলাশ বলেন,পদ্মাসেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলে বেড়েছে ক্ষূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস। তবে যাত্রীদের সেবার জন্যে কোন যাত্রী ছাউনি ও বাস টার্মিনাল নেই।
শরনখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুর ই আলম সিদ্দিকী বলেন,স্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মানের জন্য সকলের উদ্যোগ নিয়ে জমি নির্বাচনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন ঘেঁষা মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা থেকে জেলাশহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দৈনিক ১০ হাজারের বেশি মানুষ যাতায়াত করে।