ড্রাগন ঘিরে স্বপ্ন চৌগাছার আঙুর চাষি রুহুল আমিনের

0

মুকুরুল ইসলম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছার তরুণ উদ্যোক্তা কৃষক রুহুল আমিন এ বছরও ড্রাগন চাষে ব্যাপক সাফল্য পাবেন বলে আশা করছেন। গত বছর দুই বিঘা জমিতে প্রায় ১৪ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করেন। এ বছর প্রতিটি গাছে যে পরিমাণ ফুল এসেছে তাতে গত বছরের থেকে বেশি ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আঙুরের পর ড্রাগনে সাফল্য পাওয়া কৃষক রুহুল আমিনকে অনেকেই অনুসরণ করতে শুরু করেছেন।
চৌগাছা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেলেমাঠ গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন। নিজের জায়গা জমি না থাকলেও পরের জমি লিজ- বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন। গত কয়েক বছর তিনি অন্য ফসলের চেয়ে ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেন। ড্রাগন, কুল আঙুরসহ বেশ কিছু ফলের চাষ করে তিনি সাফল্যও পেয়েছেন। গত বছরে দুই বিঘা জমি হতে ড্রাগন বিক্রি করে ব্যাপক সাফল্য পেয়ে এ বছর তিনি আরও দুই বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করেছেন। ড্রাগনের পাশাপাশি চাষ করেছেন আঙুুর। মিষ্টি আঙুর চাষে তিনি অন্য যে কোন ফসলের চেয়ে বেশি লাভবান হবেন বলে আশা করছেন।
বুধবার (৭ জুন) খুব সকালে কৃষক রুহুল আমিনের ড্রাগন বাগানে গিয়ে দেখা যায়, তারার মত সাদা ফুল ফুটে আছে জমিতে। পাতাবিহীন লতা গাছে সাদা ফুল এক অন্য রকম সৌন্দর্য বহন করছে। মৌমাছির গুনগুন শব্দ সেই সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কৃষক রুহুল আমিন ভোর হতেই জমি পরিচর্জায় ব্যস্ত আছেন। এ সময় কথা এই তরুণ উদ্যোক্তার সাথে। তিনি বলেন, স্বপ্ন আছে বলেই মানুষ বেঁচে থাকে। আমার কোন চাষাবাদের জমি নেই। কিন্তু স্বপ্ন ছিলো আকাশসম। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে অন্যের জমি লিজ- বর্গা নিয়ে ফল চাষে মনোযোগী হয়ে উঠি। প্রথম বছরেই পাই সাফল্য। যার করণে এ বছর আঙুরের চাষ করার পাশাপাশি আরও দুই বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করেছি। আগে লাগানো ড্রাগন বাগানে এ বছর প্রচুর ফুল এসেছে। আশা করছি ফলও অনুরুপভাবে আসবে।
কৃষক রুহুল আমিন বলেন, এখন ড্রাগনের ফুল আসার ভরা মৌসুম। প্রতিটি গাছ ফুলে ভরে উঠেছে। ড্রাগনের ফুল মূলত রাতের আঁধারে ফোটে। সূর্যের আলো ওঠা মাত্রই তা বন্ধ হয়ে যায়। এই অল্প সময়ের মধ্যে মৌমাছি ফুলের ওপর যেন হুমড়ি খেয়ে পড়ে। মৌমাছির পরাগয়নের সাথে সাথে আমি নিজেও পুরুষ ফুল দিয়ে পরাগয়ন করি। গত বছরের থেকে চলতি বছরে বেশি টাকার ড্রাগন বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।
সূত্র জানায়, রাতের রানী ড্রাগন ফুল। ড্রাগন গাছ শুধুমাত্র রাতে ফুল দেয়। ফুল লম্বাটে সাদা ও হলুদ রঙের হয়। অনেকটা ‘নাইট কুইন’ ফুলের মত। এ কারণে ড্রাগন ফুলকে ‘রাতের রানী’ নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। দক্ষিণ এশিয়া বিশেষ করে মালায়েশিয়াতে ড্রাগন ফলের প্রবর্তন করা হয় বিংশ শতাব্দির শেষের দিকে। তবে ভিয়েতনামে এ ফল সর্বাধিক বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। বর্তমানে এ ফলটি দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন, মেক্সিকো, থাইল্যান্ডসহ বাংলাদেশেও চাষ করা হচ্ছে।