যশোরে দোকানে চিনি সরবরাহ বেড়েছে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ।।  যশোরে হঠাৎ করেই চিনির সরবরাহ বেড়েছে। তবে দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি। এ সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে আরও ১০ টাকা। বাজারে সবজি এখনও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ মাছসহ অন্যান্য মাছের দাম যথেষ্ট বেশি।
দীর্ঘদিন লুকোচুরির পর ব্যবসায়ীরা বাজারে চিনির সরবরাহ বাড়িয়েছেন।  শুক্রবার (২ জুন) যশোরের বড়বাজারে প্রায় প্রতিটি দোকানেই দেখা মেলে আমদানি করা পরিশোধিত খোলা চিনি ও দেশি লাল চিনির। প্রতি কেজি পরিশোধিত খোলা চিনি ১৩০ থেকে ১৩২ টাকা দরে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি লাল চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা কেজি।
অথচ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সর্বশেষ পরিশোধিত খোলা চিনির খুচরা বিক্রয় মূল্য ১২০ টাকা ও পরিশোধিত প্যাকেটজাত চিনির খুচরা বিক্রয় মূল্য ১২৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এর আগেও গত এপ্রিলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খোলা চিনি প্রতি কেজি ১০৪ টাকা ও প্যাকেটজাত চিনি ১০৯ টাকা দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল। ব্যবসায়ীরা এই দুই মাস সরকারের নির্ধারিত দাম উপেক্ষা করে নিজেদের ইচ্ছেমত বাজারে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি আসছিল। বর্তমানে তারা সামান্য কিছু দাম কমিয়ে বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়েছে। ভোক্তারা বলছেন চিনির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি তদারকি সংস্থাগুলো কোনও ভূমিকা রাখেনি, এখনও রাখছে না।
এদিকে বাজারে পেঁয়াজের দাম এ সপ্তাহে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহেও যা ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। সবজির বাজারে স্বস্তি পাচ্ছেন না ভোক্তারা।  শুক্রবার সজনেডাটা প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, উচ্ছে, করোলা ও মুখিকচু ১০০ টাকা,টমেটো ৮০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা,বরবটি ও শসা বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
বাজারে ইলিশ মাছসহ সব ধরনের মাছের দাম বেশি। শুক্রবার এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার টাকায়, ৭শ/৮শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২ হাজার টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১৩শ/১৪শ টাকা. রাগ বাটা ৪শ থেকে ৬শ টাকা, বেলে মাছ ৮শ থেকে ১২শ টাকা, পুঁটি মাছ ৮শ টাকা, বাইন মাছ ১২শ থেকে ১৪শ টাকা, বাগদা চিংড়ি ১হাজার টাকা, গলদা চিংড়ি ১৩শ থেকে ১৫শ টাকা, এক কেজি ওজনের রূই মাছ ২৮০ টাকা, এক কেজি ওজনের কাতল মাছ ২৫০ টাকা, দেড় কেজি ওজনের পাঙ্গাশ মাছের কেজি ২৪০ টাকা দরে বড়বাজারে বিক্রি হয়েছে।  বাজার করতে আসা প্রাক্তন শিক্ষক আব্দুল মোতালেব আক্ষেপ করে বলেন, ‘গত দু মাস ধরে লক্ষ্য করছি চিনির দাম নির্ধারণ করে দেওয়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ ব্যবসায়ীরা অবলীলায় অমান্য করে চলেছেন এবং এখনও সেই প্রবণতা চলছে। অথচ সরকারের ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরসহ অন্যান্য বাজার তদারকি সংস্থাগুলোকেও সরকারের এই নির্দেশ পালন করতে দেখা যায়নি।