প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা, প্রতিবেদক শামসুজ্জামান কারাগারে

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ )  ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে বিচারক তোফাজ্জল হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শামসুজ্জামানকে আদালতে আনা হয়।
শামসুজ্জামান জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে- উল্লেখ করে তাকে কারাগার আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রমনা মডেল থানার পরিদর্শক আবু আনছার। এ মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করেন শামসুজ্জামানের আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার। বিচারক জামিনের আবেদন খারিজ করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বুধবার (২৯ মার্চ) রাত ১১টার দিকে অ্যাড. আবদুল মশিউর মালেক বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, পত্রিকাটির সাভারের নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামান শামস, সহযোগী একজন ক্যামেরাম্যান এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
এর আগে  বুধবার সৈয়দ মো. গোলাম কিবরিয়া (৩৬) নামে এক যুবলীগ নেতা বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করেন। ওই মামলায় এ পর্যন্ত কোনও আবেদন জমা হয়নি।
বুধবার (২৯ মার্চ) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিচয়ে কিছু লোক সাভারে কর্মরত প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামানকে তার বাসা থেকে তুলে নেয়। স্থানীয় পুলিশ জানায়, তারা এ বিষয়ে কিছু জানে না। এর প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে তোলা হলো। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া দুটি মামলার মধ্যে একটিতে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে আনা হয়েছে।
এদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বুধবার মধ্যরাতে প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় একটি মামলা হয়েছে। রাজধানীর রমনা থানায় করা এই মামলায় প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক (সাভারে কর্মরত) শামসুজ্জামানকেও আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া আসামিদের মধ্যে ‘সহযোগী ক্যামেরাম্যান’সহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
ডিএমপির রমনা থানায় মামলাটি করেন আইনজীবী আবদুল মালেক। জানা গেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রমনা থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আবু আনছারকে।
আইনজীবী আবদুল মালেক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, সাংবাদিক শামসুজ্জামান ও ক্যামেরাম্যানের বিরুদ্ধে একটি এজাহার করেছি।
তিনি জানান, স্বাধীনতা নিয়ে জনমনে ‘অস্থিতিশীল ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি’ তৈরি করার কারণে তিনি মামলাটি দায়ের করেছেন। তিনি নিজেকে ‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে নিজের পরিচয় দেন।
প্রথম আলোর অনলাইনে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, এই মামলার বিষয়ে রমনা থানার পুলিশ কোনো তথ্য দিতে রাজি হয়নি। মামলায় আনা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে প্রথম আলোর দুজন প্রতিবেদক রমনা থানায় যান,গেল রাত সাড়ে ১২টার দিকে। দেড় ঘণ্টা চেষ্টা করেও থানার ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি তারা। এ সময় থানার সামনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কয়েকজন সাংবাদিক অবস্থান করেছিলেন। তাদেরও থানায় ঢুকতে দেয়া হয়নি। তবে গেটের বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছিল, থানার ভেতরে পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি অনেক মানুষের আনাগোনা ছিল।
প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা, পত্রিকাটির নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামানকে গভীর রাতে বাসা থেকে তুলে নেয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পেশাজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি)।
বৃহস্পতিবার সকালে পরিষদের আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও সদস্য সচিব সাংবাদিক কাদের গনি চৌধুরী এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানান।