যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ভালো মানের এক্স-রে মেশিন অকেজো রেখে নিম্নমানে চলছে কাজ

0

বিএম আসাদ॥ যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের এক্সরে বিভাগে অচল অবস্থা বিরাজ করছে। এক্স-রে ফ্লিমের মূল্য বেশি হওয়ায় মূল্যবান একটি এক্স-রে মেশিন এক বছর ফেলে রাখা হয়েছে। এখন এটি নষ্ট হওয়ার পথে। অপরটি মেরামতের অভাবে বছরের পর বছর অকেজো হয়ে পড়ে পড়েছে। অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের একটি এক্স-রে মেশিনে নিম্নমানের ফ্লিম দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এতে করে রোগীরা এক প্রকার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছেন, এ হাসপাতালে রয়েছে ৩টি এক্স-রে মেশিন। এর ভেতর দু’টি মেশিন মূল্যবান ও ভাল মানের। সিমেন্স কোম্পানির তৈরি সিমেন্স আইকন ৮শ এমএ নামে একটি “ফ্লুরোস্কপি” এক্স-রে মেশিন হাসপাতালে দেয়া হয় ২০০৯ সালে। বিএনপি ক্ষমতায় থাককালে যশোরবাসীর উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্যে তৎকালীন মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের চেষ্টায় ফ্লুরোস্কপি এক্স-রে মেশিনটি হাসপাতালে বরাদ্দ দেয়া হয়। তখন “ফ্লুরোস্কপি” এক্স-রে মেশিনে যশোরবাসী উন্নতমানের এক্স-রে রিপোর্ট পেতে থাকে। এ মেশিনের বিশেষ গুণাগুণ হচ্ছে, শরীরের যে স্থানটি এক্স-রে করা হয়, ওই স্থান মনিটরে প্রদর্শিত হয়। প্রয়োজনে সংরক্ষণ করে রাখা যায়। মানসম্মত ওই এক্স-রে রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকগণ নির্ভুলভাবে ক্ষত নির্ণয় করতে পারেন। যা দেখে রোগীর সঠিক চিকিৎসা দেয়া সহজ হয়। এ মেশিন বৃহত্তর যশোর জেলার কোন সরকারি কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে নেই। অথচ এক বছর ধরে মেশিনটি অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এক্স-রে বিভাগ থেকে বলা হচ্ছে, মেশিনটির কোন একটি পার্টস নষ্ট হয়ে গেছে, অথবা কোন ত্রুটি দেখা দিয়েছে। যে কারণে কাজ হচ্ছে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে মেশিনটি মেরামত করার জন্যে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকৌশলীরা যশোরে এসে মেরামত করার জন্যে আগ্রহী হচ্ছেন না। যে কারণে দ্রুত মেরামত হচ্ছে না।
অন্যদিকে, ব্যবহার না করে নষ্ট হওয়ার পথে আর একটি এক্স-রে মেশিন। যার নাম কোলেন্টা। এ মেশিনটিও অত্যন্ত মূল্যবান। ২০১৮ সালে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে এ মেশিনটি প্রদান করা হয়। এমএসআর টেন্ডারে ফিল্ম কিনে মূল্যবান এ মেশিনের মাধ্যমে রোগীদের উন্নতমানের এক্সরে করার কথা। মেশিনের ফিল্মের দামও একটু বেশি। ফিল্মের মূল্য বেশির অজুহাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেশিনটি ব্যবহার করে না। ফলে যশোরবাসী এ মেশনের থেকে উন্নত এক্সরে সুবিধা পাচ্ছে না।
এদিকে হাসপাতালে ভাল চিকিৎসা দেয়ার নামে সরকারি টিকিটের মূল্য দুইগুণ বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। যার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আয় করছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এক্স-রে মেশিনের ফিল্ম ক্রয় করতে পারছে না। ফলে দীর্ঘ ৪ বছর ধরে “কোলেন্টা” এক্স-রে মেশিন পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছেন, “কোলেন্টা” এক্স-রে মেশিনের মতো আরো একটি সচল এক্স-রে মেশিন রয়েছে “ফুজি ড্রাই পিক্স-স্মার্ট নামে। অপর দুটি এক্সরে মেশিনের চেয়ে কম মূল্যবান। এ মেশিনের “ফিল্মে”র মূল্য অনেক কম এবং নিম্নমানের। এ ‘ফিল্ম’ দিয়েই নিয়মিত রোগীদের এক্স-রে করা হচ্ছে। প্রতিদিন ৭৫ থেকে ৮০টি এক্সরে হচ্ছে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। প্রতিটি এক্স-রে করা হয় সরকার নির্ধারিত ২শ’ টাকায়। এক্স-রে থাকে ধোঁয়াশা-অস্পষ্ট।
বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আক্তারুজ্জামানের সাথে ৩০ জানুয়ারি তার কার্যালয়ে কথা হয়। কিন্তু তিনি প্রথমে বুঝাতেই পারছিলেন না। ফ্লুরোস্কপি এক্সরে মেশিনটা কি। পরে তার স্মরণে আসে। এ সময় তার সামনে বসেছিলেন সিনিয়র সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. মো. আব্দুর রহিম মোড়ল। তিনি তাকে ওই মেশিন সম্পর্কে বুঝিয়ে দেন। তখন তিনি হ্যাঁ উল্লেখ করে বলেন, আমার স্মরণে আছে। সমস্যাটি দেখবো। পড়ে থাকা “কোলেন্টা” এক্স-রে মেশিনের “ফিল্ম” কেনা হবে। সত্ত্বর এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে জানান তিনি। তবে এতোদিন কেন ফিল্ম কেনা হয়নি, এ প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি তত্ত্বাবধায়ক।