যশোরে প্রতারণার অভিযোগে চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য আটক

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে চাকরিচ্যুৎ সেনা সদস্য মিরাজ হোসেন প্রতারণার অভিযোগে আটক হয়েছেন। মনিরুল ইসলাম নামে এক যুবককে সেনা বাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া এবং ব্যাংকের ২টি চেক হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়।
আটক মিরাজ হোসেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের লিয়াকত হোসেনের ছেলে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার দালাল তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই আব্দুর রহমান।
পুলিশ জানায়, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নওয়ানী গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম প্রতারণার অভিযোগে মিরাজ হোসেনসহ দুইজনকে আসামি করে গত সোমবার রাতে কোতয়ালি থানায় মামলা করেছেন। অপর আসামি হলেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড় পাংগাসী গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে শাহ আলম।
মামলায় মনিরুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, আসামিরা তার পূর্ব পরিচিত। এর মধ্যে আসামি মিরাজ হোসেন এক সময় সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরি করতেন। এরই সূত্র ধরে আসামিরা ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে মনিরুল ইসলামকে সেনাবাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় মনিরুল ইসলামকে বলা হয়, চাকরি পাওয়ার পর তাদেরকে টাকা দিতে হবে। পরে উল্লিখিত আসামিরা মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে ১শ’ টাকা মূল্যের ২টি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। এছাড়া তারা তার কাছ থেকে স্বাক্ষর করা ব্যাংকের ২টি চেক নেন। এরপর গত রোববার সন্ধ্যায় আসামি শাহ আলম ভুক্তভোগী যুবক মনিরুল ইসলামকে জানান যে, ‘৯ জানুয়ারি সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে লোক ভর্তি করবে। তোমার মোবাইল ফোনে মেসেস যাবে।’ পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে মেসেস এলে মনিরুল ইসলাম যশোরে আসেন। গত ৯ জানুয়ারি সোমবার যশোর সেনানিবাসে গিয়ে ভর্তির জন্য প্রাথমিক পরীক্ষা, চুড়ান্ত পরীক্ষা ও শারীরিক পরীক্ষা দিলে উত্তীর্ণ হন মনিরুল ইসলাম। এরই মধ্যে আসামি মিরাজ হোসেন তাকে বারবার কল দিলে সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তার সন্দেহ হয়। তিনি সাথে সাথে মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেটটি নিয়ে নেন। তখন জিজ্ঞাসাবাদে মনিরুল ইসলাম তাকে জানান, সেনাবাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে উল্লিখিত দুই আসামি প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়াসহ ব্যাংকের ২টি চেক নিয়েছেন। এরপর কৌশল অবলম্বন করে সেনাবাহিনীর ওই কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামকে দিয়ে মোবাইল ফোন করিয়ে মিরাজ হোসেনকে আসতে বলেন। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে আসামি মিরাজ হোসেন সেনানিবাসের সামনে এলে সেনা কর্মকর্তা তাকে আটক করেন। পরে তাকে কোতয়ালি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।