কলারোয়ায় সরিষার ক্ষেতে হলুদাভ ফুলের মৌ মৌ গন্ধ

0

কলারোয়া(সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা ॥ শীতের শিশির ভেজা সকালে কুয়াশার চাদরে ঢাকা সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় দিগন্ত জুড়ে এখন হলুদের সমারহ। উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠের পর মাঠে যেন হলুদের মেলা। বেলা বাড়ার পর সরিষার সবুজ গাছের হলুদ ফুল শীতের সোনাঝরা রোদে যেন ঝিকিমিকি করছে। এ এক অপরূপ সৌন্দর্য। সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত ফসলের মাঠ।
উপজেলার প্রতিটি মাঠে এখন শুধু সরিষা ফুলের হলুদ রঙের চোখ ধাঁধানো বর্ণিল সমারহ। মৌমাছির গুনগুন শব্দে ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহ আর প্রজাপতির এক ফুল থেকে আরেক ফুলে পদার্পনের প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর ।
গত কয়েক বছর ধরে সরিষার তেলের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। অনেক কৃষকরা এ বছর আমন ধান কাটার পর পরই বিভিন্ন জাতের সরিষার চাষ শুরু করেছেন। উপজেলায় কোথাও পতিত জমি পড়ে নেই। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এখন শুধু ভালো ফলনের আশায় উপজেলা কৃষকরা রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কৃষকের পাশাপাশি বসে নেই কৃষি কর্মকর্তারাও। এদিকে চলতি রবিশস্য মৌসুমে কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা না দেয়ায় এবং সরিষা চাষের পরিবেশ অনুকূলে থাকায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলর ১২টি ইউনিয়নে ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুরুতেই সরিষা ক্ষেতে পোকা-মাকড়ের আনাগোনা দেখা দিলেও মাঠ পর্যায়ে সরিষা চাষিদেরকে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে যথাযথ পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ কারিগরী সহযোগিতার কারণে সরিষা ক্ষেত অনেকটা রোগ-বালাই মুক্ত হওয়ায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।