অবশেষে টেন্ডারবাজির দরপত্র বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বান

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ২০২২-২৩ অর্থবছরের মেডিকেল সার্জিক্যাল রিকোজিটের (এমএসআর) মালামাল সরবরাহের বহুল আলোচিত দরপত্র অবশেষে বাতিল করে পুনরায় আহ্বান করা হয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর দরপত্র জমা নেয়া হয়েছিল। ওইদিন সন্ত্রাসীরা অন্যান্য ঠিকাদারদের মারপিট ও ১২টি টেন্ডার ছিনিয়ে নেয় এবং তাদের পছন্দের ৩টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ১৩টি দরপত্র জমা দেয়। দরপত্র ছিনতাই ও ঠিকাদারকে মারপিটের ঘটনা নিয়ে দৈনিক লোকসমাজসহ বিভিন্ন পত্রিকায় তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর দফায় দফায় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি সভায় মিলিত হয়।
গত ১৬ অক্টোবর খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং বহুল আলোচিত ওই দরপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ি দরপত্র বিজ্ঞপ্তি (১৬)(খ) এর ক্ষমতা বলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আক্তারুজ্জামান গত ১৯ অক্টোবর ২০২২-২৩ অর্থবছরের দরপত্র বাতিল করেন এবং বোর্ডে নোটিস ঝুলিয়ে দেন। একই সাথে অংশ গ্রহণকারী ঠিকাদারদের দরপত্রের সাথে দেয়া জামানত (পে-অর্ডার) তার দপ্তর থেকে ফেরত নেয়ার কথা বলেন। ১৯ অক্টোবর হাসপাতালের স্মারক নং-২৫০ শঃবিঃ জেঃ হাঃ/যশোর/শা-১/২০২২/২১৫৩ মোতাবেক দরপত্র বাতিল সম্পর্কিত বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এরপর গত ২৩ অক্টোবর এমএসআর মালামাল সরবরাহের জন্যে পুনরায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সর্বমোট ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার এমএসআর মালামাল সরবরাহের দরপত্রে ৬টি গ্রুপের ভেতর সরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইডিসিএল বহির্ভূত ক-গ্রুপের ওষধ সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। খ গ্রুপে গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা, ‘গ’ গ্রুপে লিলেন সামগ্রী ‘ঘ’ গ্রুপে সার্জিকেল যন্ত্রপাতি, ‘ঙ’ গ্রুপে কেমিকেল-রিএজেন্ট ও ‘চ’ গ্রুপে আসবাবপত্র ও কিচেন সামগ্রী সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ২৪ অক্টোবর হতে আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত সকাল ৯টা হতে বেলা ১১টা পর্যন্ত হাসপাতালে রক্ষিত দরপত্র বাক্সে এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে রক্ষিত দরপত্র বাক্সে দরপত্র দাখিল করতে বলা হয়েছে। সাধারণ ডাকযোগে বা কুরিয়ার যোগে বেলা ১১টার মধ্যে দরপত্র জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দরপত্র বিক্রি করা যাবে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছেন, ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার এমএসআর দরপত্রে শতকরা ২৫ ভাগ টাকার পাবেন ঠিকাদাররা। সে মোতাবেক ইডিসিএল ওষুধ বাদে ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার ভেতর ৩ কোটি টাকার কাজ পাবেন ঠিকাদার। বাকী টাকার ওষুধ ইডিসিএল সরবরাহ করবে।
উল্লেখ্য গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রথম দরপত্র জমা দেন ৩ জন ঠিকাদার। তাদের পক্ষে হাসপাতালে আসে ভাড়াটিয়া মাস্তান বাহিনী। এ সময় তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ে বসে ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয়ের সামনে। সাধারণবেশে মাস্তানরা অবস্থান নিয়েছিল হাসপাতালে। তিনজন ঠিকাদার ছাড়া যারাই দরপত্র জমা দিতে আসেন তাদেরকে মারপিট করে দরপত্র ছিনিয়ে নিয়েছেন তারা। ঘটনাটি নিয়ে সে সময় তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আক্তারুজ্জামান পুলিশের উপর দায় চাপিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের। কি হয়েছে তারাই বলতে পারবে। দরপত্র ছিনতাই ও ঠিকাদারকে মারপিট করার কথা তিনি শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। মারপিটের শিকার ৬ জন ঠিকাদার ওইদিন দরপত্র বাতিল অথবা সময় বৃদ্ধি করার আবেদন জানিয়ে হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ককে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই ঠিকাদারগণ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এর অনুলিপি। এ নিয়ে মামলা করেন তারা। সর্বশেষ মূল্যায়ন কমিটির সভায় দরপত্র বাতিল করে পুনঃ দরপত্র আহ্বান করা হলো। দৈনিক লোকসমাজে টেন্ডারবাজি ও অনিয়ম নিয়ে তথ্যবহুল একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর ঘটনাটি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়।