যশোর চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলেও আস্থাহীনতায় ব্যবসায়ীরা

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দীর্ঘ ৮ বছর পর যশোর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংগঠনটির সাবেক নেতারা। তবে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত শতভাগ আস্থায় আসতে পারছেন না তারা।
কারোর কারোর অভিযোগ এর আগেও প্রশাসন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এজন্য আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তারা।
তফসিল অনুযায়ী ২০২৩ সালের ৭ জানুয়ারি কালেক্টরেট স্কুল প্রাঙ্গণে সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ২১টি পদে প্রার্থীরা এই নির্বাচন অংশ নিতে পারবে। গত বুধবার বিকেলে এ তফশিল ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচন বোর্ড কমিটির অহ্বায়ক ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার কেএম আবু নওশাদ স্বাক্ষরিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৮ নভেম্বর সদস্যদের চাঁদা পরিশোধের শেষ তারিখ। ২৬ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হবে ২৭ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে ৪ ডিসেম্বর। ১৮ ডিসেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।
এদিকে দীর্ঘদিন পর যশোরের ব্যবসায়ীদের এ শীর্ষ সংগঠনের নির্বাচনের জটিলতা কেটে নির্বাচনের চূড়ান্ত দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে আশাবাদি হতে পারছেন না জানান তারা।
এ বিষয়ে যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, যশোর চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাস্ট্রির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় আমরা অবশ্যই খুশি। এর মাধ্যমে চেম্বারের নেতৃত্ব ব্যবসায়ীদের হাতেই আসবে বলে মনে করি। তিনি বলেন, নানা কারণে নির্বাচন ঝুলে থাকলেও আশা করছি এবার আর কোনো সমস্যা হবেনা। নির্ধারিত তারিখেই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে চেম্বারের কার্যক্রম পরিচালনা হবে।
সংগঠনটির সাবেক আরেক সভাপতি আলহাজ মিজানুর রহমান খান বলেন, দীর্ঘ ৮ বছর পর চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাস্ট্রির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা নিশ্চয় ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এখনো আমরা পুরোপুরি আস্থায় আসতে পারছিনা। অতীত অভিজ্ঞতার কথা বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এ নির্বাচন নিয়ে আশাবাদি হতে পারছিনা। তিনি বলেন, আমরা এর আগে দেখেছি নির্বাচনের আয়োজন করার পরও পরবর্তীতে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। তাই আশা করছি এবার যেনো এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হয়। যশোরের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এ সংগঠনকে গতিশীল করতে নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা থাকবে বলে তিনি আশা করেন।
উল্লেখ্য দীর্ঘ ৮ বছর ধরে যশোর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন হয়নি। ২০১১ সালের ১৬ এপ্রিল সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জেলা বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খানের নেতৃত্বাধীন প্যানেল বিজয়ী হয়। ২০১২ সালের ৩ মার্চ মিজানুর রহমান খানের নেতৃত্বাধীন কমিটি দায়িত্ব বুঝে পান। ২০১৪ সালের ২৩ এপ্রিল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ওই বছরের ১২ জুলাই ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল। মামলা জটিলতায় সেই নির্বাচন হয়নি। ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর চেম্বারে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। সেই থেকে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব পালন করে আসছে প্রশাসক।