চাঁচড়ায় ইমরোজ হত্যার জেরে রনি খুন বলছে পুলিশ

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়ায় আলোচিত ইমরোজ হত্যাকাণ্ডের জের ধরে একই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি রনি হোসেন খুন হয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। নিহতের পিতা বাবর আলীও তার ছেলেকে হত্যার জন্য ইমরোজের পিতা নুর ইসলাম ওরফে নুরু মহুরিকে দায়ী করেছেন। তবে রনি হোসেন হত্যাকে পূঁজি করে ইতোমধ্যে একটি বিশেষ মহল সুবিধা নেওয়ার জন্য ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
নিহত রনি হোসেনের পিতা বাবর আলী জানান, তারা চাঁচড়ার গোলদারপাড়া কলোনিতে বসবাস করেন। গত শনিবার বিকেলে চাঁচড়া বর্মণপাড়ার রকি, রবি ও পূর্বপাড়ার ইউসুফ তার ছেলেকে দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। সেই থেকে তার ছেলে নিখোঁজ ছিলো। পরদিন রোববার সন্ধ্যায় চাঁচড়ার দক্ষিণ বর্মণপাড়ার শ্মশানঘাটে তার ছেলের লাশ পাওয়া যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ইমরোজের পিতা নুরু মহুরি ও ভাই ইসরাজুল আগে থেকেই শ্মশানে ছিলেন। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে তারাই তার ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন। তিনি জানান, তার ছেলে রনি হোসেন আগে মাছের পিকআপে কাজ করতো। বর্তমানে সে বিভিন্ন মোবাইল ফোনের টাওয়ারের কাজের সাথে জড়িত ছিলো। তিনি আরো জানান, তার ছেলে হত্যার সাথে জড়িত রকি নামে এক সন্ত্রাসীকে পুলিশ গত রোববার আটক করেছে। রকি চাঁচড়া বর্মণপাড়ার পুলিন বর্মণের ছেলে। পুলিশকে সে হত্যার সাথে জড়িত ৬ জনের নাম জানিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন বাবর আলী।
কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, নিহত রনি এলাকার ইমরোজ হত্যাসহ ৯ মামলার আসামি ছিলেন। ইমরোজ হত্যার জের ধরে রনি খুন হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।
ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ইমরোজ হত্যার জের ধরে রনি খুন হয়েছেন বলে তারাও জানতে পেরেছেন।
কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) শেখ মো. মনিরুজ্জামান সোমবার সন্ধ্যায় জানান, রনি হোসেন হত্যার ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। হয়তোবা রাতে এজাহার দাখিল করতে পারে নিহতের পরিবার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, রনি হত্যাকা-কে কেন্দ্র করে নিজ আশ্রিত সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে নিয়ে ইমরোজ হত্যায় আলোচিত এক ব্যক্তি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া তৎপরতার কারণে চাঁচড়ার বর্মণপাড়া, ভাতুড়িয়া, নারায়ণপুরসহ কয়েকটি এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সূত্র জানায়, চাঁচড়া এলাকার আলোচিত ওই ব্যক্তির ক্যাডার ছিলেন রনি। ইমরোজ হত্যাকা-কে কেন্দ্র করে আলোচিত ব্যক্তির অন্যতম প্রতিপক্ষ নুরু মহুরি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নুরু মহুরিকে ঘায়েল করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। রনি খুন হওয়ায় এটাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষ নুরু মহুরিকে শায়েস্তা করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই দুপুরে চাঁচড়া ইউনিয়নের ভাতুড়িয়ায় সন্ত্রাসীদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের কোপে নিহত হন ইমরোজ নামে এক যুবক। এ ঘটনায় বাবর আলীর ছেলে রনিসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৮/১০ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। এই মামলার তদন্ত শেষে ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জাশিট দাখিল করেন ডিবি পুলিশের এসআই মো.শামীম হোসেন। অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়ার মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সেলিম রেজা পান্নু, চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকার মৃত তৌহিদুল ইসলামের ছেলে আকিবুর রহমান, ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়ার আব্দুর রহমানের ছেলে মোস্তফা ওরফে মোস্ত, বাহাদুরপুর পশ্চিমপাড়ার আব্দুর রহমানের ছেলে আলী হোসেন, চাঁচড়া ডালমিল এলাকার আজিজুল হকের ছেলে খাইরুল ইসলাম রিংকু, চাঁচড়া মধ্যপাড়ার মৃত মিজানুর রহমান ভগোর ছেলে আতিকুর রহমান স্বাধীন, ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়ার শাহজাহানের ছেলে আব্দুর রহিম বিশ্বাস, চাঁচড়া গোলদারপাড়ার মোশারফ হোসেন খোকনের ছেলে শাহিন রেজা, হঠাৎপাড়ার বাবর আলীর ছেলে রনি, ভাতুড়িয়া-নারায়ণপুরের এনামুল সরদারের ছেলে নাজমুল হোসেন, ভাতুড়িয়া মধ্যপাড়ার সেলিম হোসেন রাজামিয়ার ছেলে তানভীর হোসেন, ঝাউদিয়া গ্রামের হাফজুর রহমান হাফিজের ছেলে সজল, কিসমত নওয়াপড়ার জামসেদ ওরফে মন্টুর ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিকী মন্টু ও ভাতুড়িয়া হাফেজপাড়ার মাহাবুব আলমের ছেলে হাসান মাহমুদ।