যশোরের চুড়ামনকাটিতে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রুপের হাতে মুন্না গ্রুপের সন্ত্রাসী আলম খুন

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥  শুক্রবার যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের নির্মম নির্যাতনে আলম মণ্ডল (৩৫) নামে এক সন্ত্রাসী খুন হয়েছেন। পুলিশ বলছে, নিহত আলম মণ্ডল চুড়ামনকাটির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্নার লোক। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান দাউদ হোসেনের লোকজনের হাতে তিনি খুন হয়েছেন। নিহত আলম মণ্ডল ছাতিয়ানতলা গ্রামের মৃত শামছুদ্দিন মণ্ডলের ছেলে।
অপরদিকে আলম মণ্ডল খুনের ঘটনায় বর্তমান চেয়ারম্যান দাউদ হোসেনের ছেলেসহ দুজনকে পুলিশ আটক করেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে কাউকে আটকের কথা স্বীকার করা হয়নি।
নিহতের ছেলে ইমরান হোসেন জানান, তার পিতা আলম মণ্ডল পেশায় রিকশা চালক। দুপুর ১ টার দিকে একই এলাকার রুনুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তার পিতাকে ডেকে স্থানীয় কাজীর বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে ১৫/১৬ জন সন্ত্রাসী তার পিতাকে বেদম মারধর করে। গুপ্তি দিয়ে পায়ের একাধিক স্থানে খুঁচিয়ে ছিদ্র করে দেওয়া হয়। হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দুটি পা ভেঙে দেয় সন্ত্রাসীরা। লোকমুখে এ খবর পেয়ে কাজীর বাগানে গিয়ে তার পিতাকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন ইমরান। পরে তাকে উদ্ধার করে বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শুভাশিস রায় তার পিতা আলম মণ্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক শুভাশিস রায় বলেন, আঘাতজনিত কারণে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আঘাতের কারণে তার দুটি পা ভেঙে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, পেশায় রিকশাচালক হলেও আব্দুল মান্নান মুন্না চুড়ামনকাটির চেয়ারম্যান থাকাকালীন এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছেন আলম মণ্ডল এরই জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, নিহত আলম মণ্ডল এলাকার মুন্না গ্রুপের লোক। চেয়ারম্যান দাউদ গ্রুপের লোকজনের হাতে তিনি খুন হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ থানায় এজাহার দেয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একটি সূত্র জানায়, আলম মণ্ডল খুনের পর পুলিশ চুড়ামনকাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে ধরে নিয়ে গেছে। এর মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান দাউদ হোসেনের ছেলে রয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) শেখ মো. মনিরুজ্জামান হত্যার ঘটনায় কাউকে আটকের কথা অস্বীকার করেছেন।