আবারো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, আবারও সীমান্ত হত্যা

0

 

আবারও ঘটলো সীমান্ত হত্যার ঘটনা। এবার ঘটনাটি এমন একসময়ে ঘটেছে, যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সদ্যই ভারত সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এবারের সফরে দুই দেশের সরকারপ্রধানদের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। অনেক অমীমাংসিত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। যা চাওয়া হয়েছে তাই দিয়েছে ভারত এমন বক্তব্য প্রচার চলছে সংবাদ মাধ্যমে। জানা গেছে, দিনাজপুরে দাইনুর সীমান্তে গত বুধবার মধ্যরাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত হয় স্কুলছাত্র মিনহাজুল ইসলাম মিনাজ। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের নারায়ণপুর সীমান্ত এলাকা থেকে এক বাংলাদেশী ওই স্কুল ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, ওই যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর গুলি করা হয়েছিল। এর আগেও এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বহুবার। বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তে হত্যার ঘটনাটি সত্যিকার অর্থেই দুই দেশের মধ্যে কাঁটা হয়ে বিঁধে আছে। কোনোভাবেই এই হত্যা বন্ধ হচ্ছে না বা বন্ধ করা যাচ্ছে না। অথচ, উভয় দেশের সরকার, নেতৃত্ব বার বার সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং দুই দেশের মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় যেসব সমস্যা রয়েছে, তা অবিলম্বে তার মীমাংসা হয়ে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, এই প্রতিশ্রুতি বারবার ভারত ভঙ্গ করছে।
এ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত সব সময়ই সংবেদনশীল। কাজেই সব রকম সমস্যারও মীমাংসা হওয়া খুব জরুরি। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে নিয়মিত বৈঠকও হয়। গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিল্লিতে বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি সীমান্ত হত্যা বন্ধের বিষয়ে কথা বলেছেন। ২০২১ সালে ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের ১৯তম স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে ভারত সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছিল। গত জুলাই মাসে বিজিবি ও বিএসএফ ডিজি পর্যায়ের বৈঠকেও সীমান্তে উভয় দেশের নিরস্ত্র নাগরিকদের হত্যা, আহত ও মারধরের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ব্যাপারে দুই পক্ষ একমত পোষণ করেছিল।
তারপরও সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশী নিহত হচ্ছে। নারী পুরুষ, স্কুল ছাত্র অর্থাৎ শিশুও রক্ষা পাচ্ছে না। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার এর জন্য কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারকে দায়ি করছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ হওয়া দরকার। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত বহুবার আলোচনা করেছে। সব সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব বলে আমরাও মনে করি। মাদক, অস্ত্রসহ বিভিন্ন চোরাচালান, মানবপাচারসহ অন্য সব অপরাধ কর্মকাণ্ড শুধু বাংলাদেশী নয় ভারতীয়রাও করে। তাহলে লাশ কেন বাংলাদেশীরা হবে? প্রশ্নটি সরকার বন্ধুত্বের কারণে এড়িয়ে গেলেও জনমনে কিন্তু বড় হচ্ছে। বিষয় আমাদের সরকারকে ভাবতে হবে। তাদের বলতে হবে বন্ধুত্ব দৃঢ় রাখতে।
দুই দেশের মধ্যে বোঝাপড়াটা অনেক বেশি জরুরি। বারবার সীমান্ত হত্যা সম্পর্কের বিভাজনের কারণ হতে পারে শুধুমাত্র এই ইস্যুতে দুই দেশের আলোচনা করা প্রয়োজন। পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার কোন বিকল্প এ মুহূর্তে খোলা নেই।