চাল আমদানিতে সতর্ক হতে হবে

0

 

বৈরি প্রকৃতিতে ব্যাহত আমন চাষ ও ঊর্ধ্বমুখি বাজার বাস্তবতায় আমাদের চাল আমদানি করার কোনো বিকল্প নেই। দেশের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য মজুদ রাখতে হবে। বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও বৈরি প্রকৃতির ধাক্কা এবার বেশ ভালোভাবেই আমাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারকে চারদিক সামাল দিতে হচ্ছে। বাজারে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পেতে হলে সরকারকে মজুদ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট যেভাবে বাজার অস্থির করে তুলছে তাতে ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হতে পারে। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা একেবারেই সুখকর নয়। প্রতিবছর ধানের মৌসুমে সরকারের পক্ষ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ করা হয়। দেশের রাইস মিলগুলো থেকেও সরকার চাল কিনে থাকে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, সুযোগ নিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে চালের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সরকারি অবহেলায় যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়াই দেশের বাজারে চালের দাম বেড়ে যায়। আবার সরকারের মজুদ কমে গেলে চালের বাজারের পুরো নিয়ন্ত্রণ অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যায়। তখন আবার চালের বাজারে নতুন অস্থিরতা দেখা দেয়। চালের বাজার অস্থিতিশীল করতে একটি সিন্ডিকেট কাজ সরকারের বড় বড় কর্তাদের আশীর্বাদপ্রাপ্ত। তারপরও বলতে হবে স্বাভাবিকভাবেই চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চাল আমদানি করতে হবে।
ফলে প্রশ্ন উঠেছে, যখন অন্যান্য দেশে এর চেয়ে অনেক কম দামে চাল পাওয়া যাচ্ছে, তখন কেন বেশি দামে কিনতে হবে? অনেকে এর পিছনে কারসাজির গন্ধ পাচ্ছেন।
বিষয়টি বুঝতে পেরে সরকার চালের বাজার স্বাভাবিক রাখতে গত জুনে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় বেসরকারিভাবে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ৯ লাখ ১০ হাজার টন চাল আমদানির জন্য ৩২৯ প্রতিষ্ঠানকে অনুমতিও দিয়েছিল সরকার। আমদানি শুল্কও কমিয়ে দেওয়া হয়। সরকারও চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গত বুধবার মিয়ানমার থেকে দুই লাখ টন আতপ চাল আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। কিন্তু প্রতি টন চালের যে ব্যয় ধরা হয়েছে তা চাল রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের করা প্রতিবেদনে খাদ্যশস্যের সম্ভাব্য আমদানির যে মূল্য দেখানো হয়েছে, তাতে দেখা যায়, ভারত থেকে তখন শুল্ক বৃদ্ধির আগে এক টন চাল আমদানি করে দেশের বন্দরে আনতে খরচ পড়তো ৩৭৩ ডলার, থাইল্যান্ড থেকে ৪৪৬ ডলার, ভিয়েতনাম থেকে ৪১৬ ডলার এবং পাকিস্তান থেকে ৪১০ ডলার।
আমরা মনে করি যে, ক্রান্তিকাল সরকার ও জনগণ মোকাবেলা করছে। তাতে এ ধরনের আমদানি ক্ষতিকর হবে। যেখানে কম দামে ভালো চাল মিলবে সেখান থেকেই কেনা উচিত হবে।