কপোতাক্ষের অনিশ্চয়তা দূর হোক

0

 

কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের গৃহিত ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয় হয়ে পড়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্ব ক্ষতিপূরণ পাননি জমির মালিকরা। সংবাদে জানা যায়, কপোতাক্ষ পাড়ের জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে ‘কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প’ নামে ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয় পরবর্তী সরকার। ২০১১ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া সেই প্রকল্পটি শেষ হয় ২০১৭ সালের জুন মাসে।
প্রকল্পটির প্রধান দুটি বিষয় ছিল, ৯০ কিলোমিটার নদী খনন এবং সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জালালপুর, খেশরা ও মাগুরা ইউনিয়নে অবস্থিত পাখিমারা বিলে টিআরএম বাস্তবায়ন। লোকসমাজসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পে পাখিমারা বিলে টিআরএম বাস্তবায়িত হওয়ায় কপোতাক্ষ অববাহিকা জলাবদ্ধতামুক্ত হয়েছে। এতে উপকৃত হয়েছে কপোতাক্ষ পাড়ের ১৫ লাখ অধিবাসী। কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের অগ্রগতি অব্যাহত রাখার স্বার্থে বর্তমান সরকার ২০২০ সালে দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের মূল কাজ নির্ধারণ হয় পেরিফেরাল বাঁধ সংস্কার এবং টিআরএম কার্যক্রম অব্যাহত রাখা। এগুলো বাস্তবায়নে ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকা বরাদ্দ হলেও কোনো টাকা পাননি জমির মালিকরা। ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ায় বেশির ভাগ জমির মালিক তাঁদের জমিতে চাষাবাদ ও মাছ চাষ শুরু করেছেন। এতে মূল প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কপোতাক্ষ পাড়ের সমস্যা সম্পর্কে অবগত বিশেষজ্ঞরা জানান, পেরিফেরাল বাঁধ সংস্কার ও টিআরএম কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এলাকার মানুষের দাবি খুবই ন্যায়সংগত। কারণ যেখানে বাঁধ আছে, সেখানকার মানুষের এক ধরনের প্রস্তুতি থাকে। সেখানকার ফসলি জমির ধরন আলাদা হয়। সেখানকার মাটির গঠন আলাদা ধরনের হয়। আর যেখানে বাঁধ নেই, সেখানে আরেক ধরনের ফসল ফলে, মানুষের ভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি থাকে।
অন্যদিকে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট বা টিআরএম সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নদীভাঙন রোধের জন্য ড্রেজিংই একমাত্র সমাধান নয়। নদীর চরিত্র বুঝে কাজ করতে হবে। সব নদীর চরিত্র বা বৈশিষ্ট্য কিন্তু আবার এক রকম নয়। কোনো নদী বেশি পলি ধারণ করে, আবার কোনোটা কম। কেউ বেশি খরস্রোতা, কেউ আবার সারা বছরই সমান তালে চলে। তাই, নদীর বৈশিষ্ট্য সমুন্নত রেখে তাকে ব্যবহারোপযোগী করতে হবে। এ জন্য নদীশাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নদীশাসনের প্রধান কাজ হওয়া উচিত নদীর পার সংরক্ষণ করা। নদীর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কাজটি করতে হবে। শুধু বাঁধ দিয়ে তাকে একটা নির্দিষ্ট সীমায় আটকে রাখা গেলে সে লোকালয়ের কোনো ক্ষতি করবে না। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যের যৌক্তিক ভিত্তি সরকারের প্রকল্প বিশেষজ্ঞরা বিবেচনা করবেন। তবে জনগণ চায়, কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূর করতে নেওয়া প্রকল্পের কাজ অবিলম্বে শুরু করতে হবে। তার আগে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে ফল ও মাছ চাষ থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। আমরা জনগণের দাবি বিবেচনার প্রস্তাব রাখছি।