যশোরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যার ঘটনায় মামলা

0

 

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের রেল রোড আশ্রম মোড়ে সাবেক প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মরহুম মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী রওশন আরা বেগম রোশনী খুনের ঘটনায় গেল মঙ্গলবার রাতে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের মা উপশহরের ডি-ব্লকের বাসিন্দা সেবিনা বেগম মামলাটি করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে। তবে হত্যাকান্ডের ৩ দিন পার হয়ে গেলেও জড়িত কাউকে এখনো পর্যন্ত শনাক্ত বা আটক করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। কী কারণে তিনি খুন হয়েছেন সেই রহস্যও উদ্ঘাটিত হয়নি।
অপরদিকে ওই নারী খুন হওয়ার পর ষষ্ঠীতলা কেন্দ্রিক কয়েকজন সন্ত্রাসী গা ঢাকা দিয়েছে বলে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে। এ কারণে কেউ কেউ তাদেরকেও সন্দেহ করছেন।
পুলিশ জানায়, নিহতের মা সেবিনা বেগম মামলায় উল্লেখ করেছেন, তার মেয়ে রোশনীর স্বামী ১৯/২০ বছর আগে মারা গেছেন। রোশনীর ছেলে সরকারি কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি পিএচডি করার জন্য আমেরিকায় অবস্থান করছেন। আর তার মেয়ে ঢাকায় স্ট্যামফোর্ড ইউনির্ভাসিটিতে পড়াশোনা করেন। বর্তমানে রোশনী যশোরে নিজ বাসায় একাকী বসবাস করে আসছিলেন। গত ২৯ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে সেবিনা বেগম মেয়ের বাড়িতে আসেন এবং কলিং বেল বাজানোর পরও কোনো সাড়াশব্দ পাননি। বাড়ির প্রধান গেট খোলা দেখতে পান। তবে বাড়ির গ্রিলে তালা লাগানো ছিলো। এ কারণে সেবিনা বেগম পাশের রান্নাঘরের জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দেন এবং দেখতে পান রোশনীর ঘরের আলমারি খোলা। তখন সন্দেহ হলে পেছনে গিয়ে ঘরের জানালার পর্দা সরিয়ে দেখতে পান, আসলেই আলমারি খোলা রয়েছে। এছাড়া শোবার ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। এরপর সেবনিা বেগম তাৎক্ষণিক উপশহরে তার বাড়িতে বসবাসকারী ছোটমেয়ে ডা. দিলরুবা ফেরদৌসকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। এ খবর পেয়ে ছোটমেয়ে রোশনীর বাড়িতে চলে আসেন। পরে খবর দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং গ্রিলের তালা ভেঙে ভেতরে যায়। স্বজনেরাও পুলিশের সাথে ঘরের ভেতরে যান। তারা এ সময় দেখতে পান, ডাইনিং রুমের ফ্লোরে প্রচুর রক্ত পড়ে আছে এবং ধস্তাধস্তির চিহ্নও পরিলক্ষিত হয়। পরে শোবার ঘরে গিয়ে বঙ্খাটের নিচে রোশনীর লাশ দেখতে পাওয়া যায়। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৯ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে আমেরিকায় মোবাইল ফোনে নাতির সাথে কথা বলেছেন রোশনী। এ কারণে সেবিনা বেগমের ধারণা, সকাল ৯ থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা কে কারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে চাকু দিয়ে আঘাত করে তার মেয়ে রোশনীকে হত্যা করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই খান মাইদুল ইসলাম রাজিব জানান, তারা এখনো পর্যন্ত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন অথবা ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেননি।
অপরদিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ও ডিবি পুলিশ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, নিহত রোশনীর বাড়ির পেছনে ষষ্ঠীতলা এলাকায় চিহ্নিত কয়েকজন সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারীকে নিয়মিত দেখা যেতো। কিন্তু রোশনী খুন হওয়ার পর তাদেরকে আর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। তারা গা ঢাকা দিয়েছে। এ কারণে তাদেরকেও কেউ কেউ সন্দেহ করছেন।