যশোরে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় রাতের অন্ধকারে নয়, দিনের আলোতেই স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করা হবে # যেখানে বাধা আসবে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে—টুকু

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপির চলমান আন্দোলনকে গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ বলে বর্ণনা করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, অগণতান্ত্রিক এই সরকার রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে দলীয় গুন্ডা বাহিনী দিয়ে রাতের আঁধারে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। বিএনপিকে প্রতিহত করতে তারা রাজপথে গুন্ড পান্ডা লেলিয়ে দিচ্ছে। তাদের বর্বরতা একাত্তরের পাকবাহিনীকেও হার মানিয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের এসব বর্বরতার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। রাতের অন্ধকারে নয়, দিনের আলোতেই স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করা হবে। এই বক্তব্য সমর্থন করে জাতীয় স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, যেখানে বাধা আসবে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং এই সরকারকে জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, একাত্তর সালে আমরা যখন যুদ্ধে গেছি, মায়ের কাছে ফিরে আসবো ভাবি নাই। অনেকে আসেননি। আজকে পাকিস্তানিদের চেয়েও জঘন্য এই সরকারের চরিত্র। সুতরাং আজকের আন্দোলনটাকে মনে করতে হবে এটা গণতন্ত্রের যুদ্ধ। এই যুদ্ধে জিততেই হবে আমাদের। যেখানে যে পরিস্থিতি আসবে সেখানেই তা মোকাবিলা করতে হবে। এই দৃঢ় সংকল্প নিয়েই আমাদেরকে রাস্তায় থাকতে হবে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সোমবার যশোর শহরের লালদিঘিপাড়স্থ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। গত শুক্রবার ও শনিবার পরপর দুদিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলামের বাসভবনসহ বিএনপির শীর্ষ চার নেতার বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলা-ভাঙচুর এবং সর্বশেষ রোববার শহরের দড়াটানা এলাকায় দলের খুলনা বিভাগীয় বিএনপির (ভারপ্রাপ্ত) সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের গাড়িতে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। এসময় তার সাথে দলের অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বিএনপির যশোর জেলা শাখার সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু যশোরের বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার নিপীড়নের আওয়ামী বর্বরতার সার্বিক চিত্র জাতীয় নেতাদের সামনে তুলে ধরেন। পরে স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এর আগে দলের এই শীর্ষ দুই নেতা আওয়ামী সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রয়াত তরিকুল ইসলামের বাসভবনসহ অন্যান্য নেতাদের বাসভবনে সরেজমিনে দেখতে যান।
সংবাদ সম্মেলনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী সরকারকে কোনো প্রশাসন কখনো বেশিদিন রক্ষা করতে পারেনি। জনগণ জেগে উঠলে সময় সুযোগ বুঝে প্রশাসন জুলুমবাজ সরকারের পেছন থেকে সরে পড়ে। এই আওয়ামী সরকারের অবস্থাও ঠিক সেই অবস্থার দিকে এগুচ্ছে। তারা পুলিশ প্রশাসনের ওপর আর আস্থা রাখতে পারছে না। এ কারণে তারা দলীয় গুন্ডাপান্ডাকে রাতের অন্ধকারে রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে হামলা চালাতে ব্যবহার করছে।
এই অবস্থা বেশি দিন চলতে পারে না বলে দলের এই বর্ষীয়ান নেতা বলেন, এদেশের দামাল ছেলেরা এই দুর্বৃত্তদের হাত থেকে গণতন্ত্র রক্ষা করবেই। মনে রাখতে হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই সংগ্রামে চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের রাজপথে থাকতে হবে। ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। সরকারের সময় শেষ। মুদ্রা পাচার করে রাজকোষ উজাড় করে ফেলেছে। বিদ্যুৎ খাত থেকে টাকা লোপাট করে দেশকে কঠিন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, রাজপথে বাধা আসবেই। কিন্তু তা দেখে বসে থাকলে চলবে না। যেখানে বাধা আসবে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আক্রমণের জবাব আক্রমণ দিয়েই দিতে হবে। এই স্বৈরসরকারের পতন না ঘটিয়ে আমরা ঘরে ফিরবো না। তিনি বলেন, যেখানে আইনের শাসন অচল, বিচারহীনতার কালচার চালু রয়েছে সেখানে আইনের আশ্রয় নিয়ে কোনো লাভ হবে না। তারপরও আমরা আইনের আশ্রয় নেবো ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে। তিনি বলেন, আইনের আশ্রয় নেওয়ার পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলন চলবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এই সরকার মোনাফিকের সরকার। এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী মুখে যা বলেন তা করেন না। আর যা করেন তা মুখে বলেন না। তিনি বলেন, এই সরকার ২৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা বলে ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে। এর দায় তাদেরকে নিতে হবে, জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ফলে আন্দোলন ছাড়া এই সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজানো সম্ভব নয়। এই যুদ্ধ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রাজপথে লড়াই সংগ্রাম করে এই সরকারের পতন নিশ্চিত না করা পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘরে ফিরতে পারে না – উল্লেখ করে টুকু বলেন, এই আন্দোলন সরকারের জন্যে অ্যাসিড টেস্ট। তিনি বলেন, সারা দেশের মত যশোরে আমাদের নেতাদের বাসাবাড়িতে হামলার ঘটনা পাকিস্তান বাহিনীকেও হার মানিয়েছে। এই অবস্থা আর চলতে দেওয়া হবে না। হামলার জবাব হামলা দিয়েই দেওয়া হবে। এই সরকার নীতি নৈতিকতার জায়গায় এতো নিচে নেমে গেছে যে তারা তরিকুল ইসলামের মতো বরেণ্য রাজনীতিকের বাড়িতে হামলা করছে । অথচ তরিকুল ইসলামের এই বাড়িটি এই অঞ্চলে রাজনীতির সম্প্রীতির নিদর্শন হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। রাতের বেলায় নেতাদের বাসাবাড়িতে হামলা করতে দ্বিধা করছে না তারা। এটা কোনো সভ্য দেশের কালচার হতে পারে না। আগামীতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে তার যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় (ভারপ্রাপ্ত) সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, বর্তমান নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বকুল, খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এস এম শফিকুল আলম মনা, সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির এজাজ খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল হোসেন আজাদ, সাবিরা নাজমুল মুন্নি, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, অ্যাড. মো. ইসহক, আব্দুস সালাম আজাদ, আলহাজ মিজানুুর রহমান খাঁন, মারুফুল ইসলাম, অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মুকুল, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক পৌর মেয়র অ্যাড. শহীদ ইকবাল হোসেন, অভয়নগর উপজেলা বিএপির আহ্বায়ক ফারাজি মতিয়ার রহমান, শার্শা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুজ্জামান মধু, ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোর্তজা এলাহী টিপু, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম প্রমুখ।