শালিখায় অনাবৃষ্টিতে আমন ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক

0

 

শহিদুজ্জামান চাঁদ,শালিখা(মাগুরা)॥ আমন ধানের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় শ্রাবণ মাস। কিন্তুআষাঢ় ও শ্রাবণ মাস শেষ হয়ে গেলেও ভরা মৌসুমের বৃষ্টি হয়নি। অনাবৃষ্টিতে আমন ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শালিখা উপজেলার আমন ধান চাষিরা। বৃষ্টির আশায় কৃষক স্বপ্ন দেখেন আমন ধান চাষের কিন্তু প্রকৃতি নির্ভর হওয়ায় কৃষকের সেই স্বপ্ন বৃথা হতে যাচ্ছে। তীব্র খরার ফলে ফেটে যাচ্ছে ফসলের মাঠ, নষ্ট হচ্ছে আমনের চাষ।
শালিখা উপজেলার আমন ধান চাষিদের সাথে কথা বললে তারা জানান, লোডশেডিংয়ের ফলে জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সেচ দিতে পারছেন না। তেল ও সারের দাম বৃদ্ধি গওয়ায় আমন ধান চাষ করে কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন না । আমন ধান চাষে কৃষকরা প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল হয়। কিন্তু এবার আষাঢ়, শ্রাবণ শেষে ভাদ্র মাস পার হয়ে যাচ্ছে তবুও বৃষ্টির মুখ দেখতে পারছেন না। প্রখর খরার তাপে শুকিয়ে যাচ্ছে জমি। বার বার সেচ দিয়ে দিশেহারা হতে হচ্ছে। জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সেচ দিতে পারা যাচ্ছে না। মেশিনের সেচ পদ্ধতি ব্যাবহার করতে হলে বেশি দামে ‘ তেল কিনে চাষ করে কৃষককে লোকশান গুণতে হবে। ইউরিয়া সারের দাম আগে একহাজার টাকা বস্তা কিনতে হতো কিন্তু বর্তমানে চৌদ্দশত টাকা বস্তা কিনতে হচ্ছে। বেশি দাম দিয়েও ঠিকমতো সার কিনতে পারছেন না তারা। সবকিছুর দাম বৃদ্ধি হলেও কখনও নায্য মূল্য পায়ন না কৃষক।
উপজেলার ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়নের ছানি আড় পাড়া গ্রামের আমন ধান চাষি মো. সোহরাব মীরের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এবার বৃষ্টি না হওয়ার কারণে আমন ধান চাষ নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। একদিকে লোডশেডিং অন্যদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি। নেই বৃষ্টি, ফসলের মাঠ ফেটে যাচ্ছে। আমন ধানে ঠিকমতো সেচ দিতে পারছি না। এই আমন ধানের চাষটা প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল হয়ে সম্পন্ন করতে হয়।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমঙ্গীর হোসেন জানান, শালিখা উপজেলায় আমন ধান চাষে বেশির ভাগই কৃষক প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল হয়। কিন্তু এবার প্রকৃতির আর্শীবাদ না থাকায় একটু সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সমস্যা সমাধান করতে ইঞ্জিন চালিত মেশিনের মাধ্যমে সেচ দিতে হবে, এ কারণে তাদের কিছু সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এবছরে শালিখা উপজেলায় আমন ধানের চাষ হয়েছে মোট ১৩ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। তারপরও তিনি আশা করেন এখন কিছু বৃষ্টি হচ্ছে ফলে আমন ধানের ফলন ভালো হবে।