উন্নয়ন অনুন্নয়নে বাড়ছে দূষণ

0

 

সর্বোচ্চ বায়ুদূষণে বিশ্বে এখনও শীর্ষ তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। এক নম্বরে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। গবেষনায় ফল হচ্ছে ঢাকায় বায়ুদূষণজনিত কারণে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে বছরে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।
এর চেয়ে অনেক গুণ বেশি মানুষ জটিল সব রোগে আক্রান্ত হয়। বায়ুদূষণের নানা কারণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যানবাহনের কালো ধোঁয়া। এই ধোঁয়ায় থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস নিঃশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢুকে এর কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ তৈরি করে। আর শুধু ফুসফুসের রোগনয়, অস্বাভাবিক মাত্রায় বায়ুদূষণের কারণে হৃদরোগ, লিভার-কিডনির রোগ, এমনকি ক্যান্সারের পরিমাণও দিন দিন বাড়ছে। শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশও ব্যাহত হচ্ছে। এর পরও এই বায়ুদূষণ রোধে আমাদের কার্যকর উদ্যোগ নেই বললেই চলে। বায়ু দুষণের দ্বিতীয় প্রধান কারণ হচ্ছে বালু উন্নয়ন ও অনুন্নয়নের দেশের সর্বত্র ধুলিময় অবস্থা বিরাজমান।
রাস্তায় বের হলে প্রায়ই দেখা যায়, অনেক পুরনো বা লক্কড়ঝক্কড় বাস, ট্রাক, লরি কিংবা অন্যান্য যানবাহন থেকে বিপুল কালো ধোঁয়া বেরোচ্ছে। কিছুক্ষণের জন্য বাসটির আশপাশ কালো হয়ে যায়। বৃদ্ধ ও শিশুরা রিকশায় বসে কাশতে থাকে। ট্রাফিক পুলিশের সামনে দিয়েই গাড়িগুলো কালো ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে চলে যায়। পুলিশ শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে। তাহলে এসব যানবাহনের বায়ুদূষণ ঠেকাবে কে? সেই প্রশ্নের উত্তর আজও আজও ক্ষতিগ্রস্ততরা পায়নি। কর্মকর্তারা বলেন, নির্গত কালো ধোঁয়ার ভিত্তিতে কোনো যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে প্রয়োজন একটি বিশেষ যন্ত্র। এর মাধ্যমে নির্ণয় করতে হবে কালো ধোঁয়ার নির্গমন ক্ষতিকর পর্যায়ে হচ্ছে কি না। আর সেই পরীক্ষাটি করতে হবে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে। মজার বিষয় হলো, বিআরটিএ এনফোর্সমেন্ট বিভাগ কিংবা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ কারো কাছেই সেই যন্ত্রটি নেই। সেই যন্ত্র রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে। অন্যদিকে তাদের রয়েছে জনবল সমস্যা। তাই রাস্তায় কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে যন্ত্রের ব্যবহার বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া হয় না। আর তার সুযোগ নেয় লক্কড়ঝক্কড় যানবাহনগুলো। সেগুলো রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ায়, আর প্রতিদিন শত শত মানুষের আয়ু ক্ষয় করে। সংশ্লিষ্ট অনেকের ধারণা, বিদ্যমান গণপরিবহনের এক-তৃতীয়াংশেরই ফিটনেস নেই। ট্রাফিক পুলিশ অন্তত ফিটনেসহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু সেখানেও বিশেষ কারণে এসব যানবাহন ছাড় পেয়ে যায়। অন্যদিকে অভিযোগ আছে, ফিট না থাকলেও বিশেষ ব্যবস্থায় এমন অনেক যানবাহন বিআরটিএর ফিটনেস সনদ পেয়ে যায়। এসব ফাঁকফোকর বন্ধ করা না গেলে যানবাহনের কালো ধোঁয়া নির্গমন বন্ধ হবে না।
অপরদিকে দেশ জুড়ে শহর গ্রাম সর্বত্র চলছে সড়ক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে। বছরের পর বছর ধরে চলছে এসব কাজ। রাজধানী থেকে গ্রাম কোথাও শেষ হয় না প্রকল্প। রাস্তার পাশেমাটি, বালু, খোয়া, পাথর রেখে এসব কাজ চলে। একটু বাতাস হলেই গোটা এলাকা নিঃশ্বাস নেবার অযোগ্য হয়ে পড়ে। হাসি কাশি করোনা আক্রান্তদেরও হার মানায়। মানুষ আক্রান্ত হয় কঠিন সব রোগে। এ নিয়েঢ হরহামেশায়ই লেখালেখি হয়। কিন্তু কোনো উন্নতি আজও হয়নি। আমরা মনে করি মানুষের জীবন মরনের প্রশ্ন যেখানে প্রবল সেখানে সরকারের সর্বত্র ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। আশা করবো বিষয়টি তারা গুরুত্বের সাথেই দেখবেন। অন্ততঃ উন্নয়নমূলক কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করবেন।