মধুমতির ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

0

মহম্মদপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা ॥ ১০ বছরে বাড়ি সরিয়েছি ৫/৬ বার। আমরা দরিদ্র কৃষক পরিবার। এবারও ভাঙনে আমাদের বসতবাড়ি ও গাছপালা নদীগর্ভে চলে গেছে। দূরে কোথাও নতুন করে বাড়িঘর তোলার সামর্থ নেই। স্বামী-সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবণযাপন করতে হচ্ছে। দুঃখ ভারাক্রান্তভাবে এসব কথা বলেন রেহেনা খাতুন নামের এক গৃহবধূ। তিনি মাগুরার মহম্মদপুরের গোপালনগর গ্রামের হাসান কাজীর স্ত্রী। তিনি জানান, চোখের পলকে মধুমতি নদী তাদের মাথা ঠাঁই গিলে খেয়েছে। শুধু রেহেনা খাতুনই নয়; নদীপাড়ের অগণিত পরিবার একাধিকবার বাড়িঘর সরিয়েও মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও রক্ষা করতে পারছেন না। রাক্ষুসী মধুমতি গিলে খাচ্ছে লোকালয়। তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।

বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মধুমতি নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ বছর উপজেলার গোপালনগর গ্রামে ভাঙনের তীব্রতায় আতঙ্কে রয়েছেন ওই গ্রামের বেশকিছু পরিবার। ভাঙনেরমুখে পড়ায় অনেকেই ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। কেটে ফেলছেন গাছপালা।

মধুমতির ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখো গেছ, নদীপাড়ের মানুষের চোখেমুখে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ছাপ। পরিবার-পরিজন নিয়ে মহাদুশ্চিন্তায় কাটছে তাদের দিনরাত। প্রতিটি মুহূর্ত শঙ্কিত থাকতে হয় তাদের।

উপজেলার উত্তরে চরসেলামতপুর থেকে শুরু করে দক্ষিণে কালিশংকরপুর পর্যন্ত নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে বসুর ধুলজুড়ী, রায়পুর, ভোলানাথপুর, রুইজানী, গোপালনগর, রায়পাশা, পাচুড়িয়া, আড়মাঝি, হরেকৃষ্ণপুর, ঝামা, দ্বিগমাঝি এবং দেউলি গ্রামে মধুমতির ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে গোপালনগর ও হরেকৃষ্ণপুর গ্রামে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। মধুমতির পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা এবং রাস্তাঘাট সবই গিলে খাচ্ছে মধুমতি। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের কাছে ভয়াবহ রূপ নিয়ে দেখা দেয় মধুমতি।

মধুমতির ভাঙনের শিকার হওয়া গোপালনগর গ্রামের হাসান কাজী বলেন, ‘আমি দরিদ্র কৃষক। পরিবার পরিজন নিয়ে কোনোরকমভাবে জীবনযাপণ করি। মধুমতির ভাঙনের কারণে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে হয়েছে।’

গোপালনগর গ্রামের বাসিন্দা ও ধোয়াইল আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙনের তীব্রতায় আতঙ্কে আছেন নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ। ভাঙন কবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে হলেও তাদেরকে রক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কমনা করেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মুরাদ হোসন বলেন, ‘ভাঙনের কবল থেকে নদীপাড়ের পরিবারগুলোকে রক্ষা করতে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানন্দ পাল বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে মাগুরা পনি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী এ. কে. এম মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শণ করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।’