খুলনার পেট্রোল পাম্পে হট্টগোল পরিবহন ভাড়ায় নৈরাজ্য

0

 

খুলনা ব্যুরো ॥ জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কথা শুনে ক্রেতাদের ভিড়-হট্টগোল এড়াতে শুক্রবার রাতে খুলনা মহানগরীর সকল ব্যক্তি মালিকানাধীন পাম্প বন্ধ রাখেন মালিকরা। শুধুমাত্র কেসিসি পরিচালিত মেসার্স কেসিসি পেট্রোলিয়াম খোলা থাকায় শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে পাম্পে দীর্ঘ লাইন এবং হট্টগোল শুরু হয়। তাদেরকে তেল দিতে গিয়ে পাম্প কর্মচারীরা হিমশিম খায়। দেখা দেয় উত্তেজনা। শুরু হয় হুলস্থুল কা-।
অপরদিকে, তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে অনেক পরিবহন অঘোষিতভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। যা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভাড়া বেশি চাওয়ায় অনেক যাত্রী নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে বাসায় ফিরে যান।
জানা গেছে, অকটেনের মূল্য বেড়ে হয়েছে ১৩৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৩০ টাকা এবং কেরোসিন ও ডিজেলের দাম ১১৪ টাকা হয়েছে। এই বর্ধিত মূল্য কার্যকর হয় শুক্রবার রাত ১২টা থেকে। জ্বালানি তেলের এই মূল্য বৃদ্ধির সংবাদে নগরীর পেট্রোলপাম্পগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ পাম্প বন্ধ রেখে তেল সরবরাহ থেকে বিরত থাকে।
ট্রাক চালক রুবেল বলেন, শুনেছি তেলের দাম বেড়েছে, শুনেই পাম্পে গিয়ে দেখি অনেক ভিড়। খালিশপুর বঙ্গবাসী এলাকার বাসিন্দা শরীফ মিজানুর রহমান বলেন, তেলের দাম বেড়েছে। সংবাদ পেয়ে নতুন রাস্তার এলেনা পাম্পে তেল নিতে এসেছিলাম। কিন্ত দিচ্ছে না।
এদিকে, তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে অনেক পরিবহন অঘোষিত ভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। ফলে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেক যাত্রী নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন বলেও শোনা গিয়েছে।
ঝিনাইদহে যাওয়ার উদ্দেশ্যে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা থেকে নগরীর সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে এসেছিলেন গৃহবধূ রিপা বেগম। সঙ্গে ছিল তার পাঁচ বছর বয়সী একটি সন্তান। তিনি জানতেন না যে তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। কিন্তু তার কাছে অতিরিক্ত ৭০ টাকা দাবি করলে হতবাক হন তিনি। তার মধ্যে তৈরি হয় ক্ষোভ ও হতাশা।
তিনি বলেন, রোববার বাবার অসুস্থতার খবর জেনে শ্বশুর বাড়ি হতে নিজ গ্রামে আসেন। ভাড়া বাড়ানো হয়েছে সেটি তিনি জানতেন না। যেদিন ঝিনাইদহ থেকে খুলনায় এসেছিলেন সেদিন তাকে টিকিট বাবদ ১৮০ টাকা দিতে হয়েছিল। কিন্তু যাবার সময় আজ তাকে ২৫০ টাকা গুণতে হবে। এটা শুনে তিনি রীতিমতো অবাক হয়েছেন।
ভাড়া বেশি নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে গড়াই পরিবহনের টিকিট মাস্টার জানিয়েছেন, তেলের দাম বেড়েছে তাই পরিবহন ভাড়া বেড়েছে।
অপরদিকে সোনাডাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া সুন্দরবন পরিবহনের লাইনম্যান সুুজিত জানান, ঢাকা যেতে ও আসতে তার ১২০ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। এখন তার ৪ হাজার টাকার বেশি প্রয়োজন হবে। গাড়ি ভাড়া জানতে চাইলে তিনি ৬৫০ টাকা দাবি করেন। অপরদিকে, খুলনা থেকে পাইকগাছা রুটের ভাড়া ১০০ টাকার স্থলে ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
যাত্রীরা অভিযোগ করেন, কোনো প্রকার ঘোষণা ছাড়াই ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা সরকারের অনৈতিক সিদ্ধান্ত।
গ্রীনলাইন পরিবহন কর্মকর্তা এম এ খায়ের বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঢাকা থেকে এখনও তাদের ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে আজকের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সোহাগ পরিববহন কাউন্টার টিকিট মাস্টার বলেন, এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগের ভাড়ায় যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে সকাল থেকে কয়েকটি গাড়ি খুলনা থেকে ছেড়ে গেছে।
টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের জিএম গোলাম ছামদানি সাকিব বলেন, সড়ক বিভাগ থেকে ভাড়ার ব্যাপারে কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে এসি ও নন এসি পরিবহনে প্রতি যাত্রীর কাছ থেকে আসন বাবদ ১০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। খুলনাবাদে অন্য রুটের ভাড়া আসন প্রতি ৫০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। তবে াযাচিতভাবে এবং পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভাড়া বৃদ্ধিতে দারুণ অসন্তোষ যাত্রীরা।