বাগেরহাটে লবণাক্ত এলাকায় অসময়ে তরমুজের বাম্পার ফলন

0

 

বাগেরহাট সংবাদদাতা ॥ বাগেরহাটের লবণাক্ত এলাকায় অসময়ে তরমুজের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। অল্প খরচে কম সময়ে ভাল লাভ হওয়ায় দিন দিন চাহিদা বাড়ছে এই তরমুজে আবাদ। দূর থেকে দেখলে মনে হয় মাচায় লাউ বা কুমড়া ঝুলছে, কিন্তু কাছে গেলে বোঝা যায় সারি সারি হলুদ ও সবুজ তরমুজের সমারোহ। রসালো ও স্বুসাদু ঝুলন্ত তরমুজ রাখা হয়েছে পরম যত্নে।
বাগেরহাট সদর উপজেলার নোনাডাঙ্গা গ্রামের মৎস্য ও সবজি চাষি জাহিদুল ইসলামের ঘেরের পাড়ে বুধবার দেখা যায় এমনই চিত্র। জাহিদুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের প্রদর্শনী খামার হিসেবে তাকে মনোনীত করে এবং তরমুজ চাষের জন্য পাঁচ হাজার টাকা অনুদান দেয়। তিনি তখন ঘেরের পাড়ে জৈব সার প্রয়োগ করে ৬০০ তরমুজের চারা রোপণ করেন। তিনি আরও জানান, তিন মাসের মাথায় ফল আসতে শুরু করে। তরমুজের জাতের মধ্যে রয়েছে তৃপ্তি ও বাংলালিংক। আকারে ছোট হলেও ভালো ফলন ও স্বুসাদু হওয়ায় বিক্রিও হচ্ছে ভালো। জাহিদুল বলেন, ‘সাত হাজার টাকা খরচ করে ইতোমধ্য ৩৩ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি। রাসায়নিক সার প্রয়োগ না করায় এই তরমুজ নিরাপদও।’ এখনও প্রায় লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির আশা করেন তিনি।
বাগেরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাদিয়া সুলতানা বলেন, ‘৭ হেক্টর জমিতে এই প্রদর্শনী খামার তৈরি করা হয়েছে। আমরা ওই চাষিকে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে খুলনা কৃষি অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন’ প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাটে প্রণোদনা দেওয়ার মাধ্যমে এই চাষ শুরু করা হয়েছে। অনাবৃষ্টি ও লবণাক্ততার কারণে ফলন কিছুটা কম হলেও আগামীতে ভালো তরমুজ উৎপাদনের বিষয়ে আশাবাদী। অফসিজনে তরমুজের ভালো ফলনে অন্য ফসলের চেয়ে কৃষকরা দামও বেশি পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।