শৈলকুপায় পানির অভাবে পাট নিয়ে বিপাকে কৃষক

0

 

মফিজুল ইসলাম ,শৈলকুপা(ঝিনাইদহ)॥ দেশের অর্থকরী ফসলের মধ্যে পাট অন্যতম হলেও পানির অভাবে পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। পাট চাষে লোকসান কম হওয়ায় ক্রমেই বাড়ছে পাট চাষির সংখ্যা। কিন্তু এখন এই পাট চাষ হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষকের গলার কাঁটা । পানি স্বল্পতা ও কিষাণ সংকট নিয়ে নাজেহাল অবস্থায় দিন পার করছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পাট চাষিরা ।
সরেজমিন উপজেলার ধলহরাচন্দ্র , ধাওড়া , কুশবাড়িয়া. হাটফাজিলপুর , দিগনগর , রতিডাঙ্গাসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে জানা যায়, এবার আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়াতে কৃষক পানির অভাবে পাটের জাগ দিতে পারছেন না। ফলে কাটা পাট জমিতে শুকিয়ে যাচ্ছে। বর্ষাকালে খাল-বিল,নদী-নালা বৃষ্টির পানিতে কানায়-কানায় ভরে যায়। কিন্তু এবার বৃষ্টি নামলেও তা যথেষ্ট না হওয়াতে এমন অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছে কৃষক ও পাটচাষিদের।বর্তমানে কিষাণের মজুরি সকাল থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত ৪ শ থেকে ৭শ টাকা দিলেও কিষাণ সংকট বিরাজ করছে। আবার পাট কাটার পর চাষিরা গরুর গাড়ি বা মহিষের গাড়িতে করে পানি সমৃদ্ধ এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে জাগ দিয়ে পাট পঁচানোর জন্য। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন ও মোটরের পানি দিয়ে পাট জাগ দিতে গিয়ে বাড়তি খরচ করছেন। পুরুষ মানুষ পাটকাটা এবং জাগ দেবার জন্য অন্যত্র বহন করা আর গ্রামের মহিলা কিষাণিরা খড়ি থেকে আঁশ আলাদা করার কাজে সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। জীবন আর জীবিকার স্বাভাবিক তাগিদে কিষাণ নির্ভর মানুষগুলো বিঘাপ্রতি (২০ কাঠা) জমির পাট কাটতে এবং পাটের বোঝা মাথায় করে রাস্তায় উঠানোর মজুরি নিচ্ছে ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। যে কারণে সেঁচ নির্ভর স্থান থেকে ফসল ঘরে উঠানো পর্যন্ত ২৫/৩০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে বলে কৃষকেরা জানান ।

অন্যদিকে ফলন ভালো হলে বিঘাপ্রতি ৮/১০ মণ ও ফলন খারাপ হলে ৩/৪ মণ করে উৎপাদন হয়ে থাকে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট ২৮/২৭শ টাকা দরে বিক্রি করছেন কৃষক ।
উপজেলার ধলহরাচন্দ্র গ্রামের কৃষক শফি মিয়া বলেন, এবার ৩ বিঘা জমিতে পাঠ চাষ করেছি । ফলন আশানুরূপ হলেও পাট বোনা থেকে শুরু করে ঘরে তুলতে যা খরচ হচ্ছে তাতে কষ্টই বৃথা । তারপর আবার বাজারে পাটের দাম কম । এইবার পাটের ভাল দাম না পেলে পরের বছর থেকে আর পাট চাষ করবো না ।
শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মাহফুজুর রহমান জানান, এবার উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে মোট ৮ হাজার ৩ শত ৯৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে । লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হজার ২শ হেক্টর। তিনি আরো জানান, বৃষ্টি না হওয়ায় খাল বিল শুকিয়ে গেছে। কৃষকরা পাট পচাতে পারছে না। তাই পানি উন্নয়ন বোডের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। আগামী ২১ জুলাই থেকে জিকে সেচ খালে পানি সরবরাহ করবে। তবে কিষাণ সংকটের কারণে পাট ঘরে তুলতে বেশি টাকা ব্যয় হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ন্যায্যমূল্য পেলে এই লোকসান পুশিয়ে নিতে পারবে ।