বাগেরহাটে ‘রোবো’ উঠবে কুরবানির হাটে

0

 

বাগেরহাট সংবাদদাতা॥ বাগেরহাটে কুরবানির হাট কাপাতে প্রস্তুত মোল্লাহাটের ‘রোবো’। সাড়ে তিন বছর বয়সী ফ্রিজিয়ান জাতের রোবোর ওজন এখন ২৫ মণ। সারা শরীর কালো, মাথায় সাদা চিতা এবং পেটের নিচে হলুদাভাব সাদা চামড়ার অসাধারণ গড়ন রোবোর। ৯ ফুট লম্বা ও সাড়ে পাঁচফুট উচ্চতার রোবো দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি মায়াবীও। ইতোমধ্যে উপজেলার সব থেকে বড় গরু হিসেবে রোবোর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকায়।
প্রতিদিনই কোন না কোন জায়গা থেকে রোবোকে দেখতে মালিক রাজিব শেখের বাড়িতে আসছেন
দর্শনার্থীরা। দু একজন ক্রেতাও ঘুরে গেছেন রোবোর খামারে।
মোল্লাহাট উপজেলার গাংনি ইউনিয়নের চরকান্দি এলাকার বাসিন্দা রাজিব শেখ। চাকরি করেন সোনালী ব্যাংক বাগেরহাট শাখার সিনিয়র অফিসার হিসেবে। চাকরির পাশাপাশি বেশ কয়েক বছর ধরে মাছ ও গরুর সমন্বিত খামার করেন তিনি। তার গরুর খামারে বর্তমানে ৮টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে এই ঈদে বিক্রি করার জন্য ৫টি ষাড় প্রস্তুত রয়েছে। এই ৫টির মধ্যে সব থেকে বড় ষাড়টির নাম রোবো। যার ওজন ২৫ মণ। অন্যগুলোও বেশ বড় বড়। রাজিব শেখের খামারের একটি গাভীতে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে জন্ম নেয় রোবো। জন্মের পর থেকেই রোবোকে অনেক যতœ করতেন রাজিব ও তার পরিবার। খামার দেখভালের দায়িত্বে থাকা মোস্তফা শেখও একটু বেশি যতœ নেন রোবোর। আস্তে আস্তে করে রোবো অনেক বড় হয়েছে। এবার কুরবানিতে রোবোকে বিক্রি করবেন এমনই আশা খামার মালিক রাজিবের।
তিনি বলেন, এই ষাড়টি আমাদের খুব আদরের। প্রাণ আরএফএল গ্রুপের শিশু খাদ্য রোবোর নাম অনুযায়ী আমরা এই গরুটির নাম রেখেছিলাম। ওকে আমরা খুবই যতœ করতাম। ভূষি, খড়-কুটো, কাঁচা ঘাষের সাথে ভাত, আম, কলাসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফল খাওয়াতাম। কখনও কোন প্রকার স্টেরয়েড বা হরমন জাতীয় ওষুধ ওর শরীরে পুশ করা হয়নি। এমনকি গরুর জন্য বাণিজ্যক খাবারও খাওয়াই না আমরা। সাড়ে তিন বছরে ও এত বড় হবে এটা আমি বুঝতে পারিনি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। লাখ দশেক টাকা হলে ওকে বিক্রি করে দেব।
খামারের দেখভালের দায়িত্বে থাকা মোস্তফা শেখ বলেন, আমাদের গোয়ালে ৮টি গরু রয়েছে। গরুগুলোকে সকাল-বিকেল গোসল করাই। এর সাথে সারাদিন বিভিন্ন খাবার-দাবার দেই। সব থেকে বেশি খায় কাঁচা ঘাষ। গরুর জন্য আমরা আলাদা করে ঘাষ চাষ করি। ওই ঘাষই এদের প্রধান খাদ্য।
গরু দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা সরদার রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার জানামতে এই উপজেলায় এত বড় গরু আর নেই। এলাকার অনেকেই এই গরু দেখতে আসে। গরুটি অনেক বড়, খুবই সুন্দর দেখতে।
বাগেরেহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাগেরহাটে বিপুল পরিমাণ গবাদিপশু পালন করেছেন খামারি ও স্থানীয়রা। জেলার বেশিরভাগ খামারিই কাঁচাঘাষ, কুটা ও স্বাভাবিক খাবার খাইয়ে গরু পালন করেন। রাজিবের খামারটি অনেক পরিকল্পিত একটি খামার। এই খামারের গরুগুলোও ভাল। আমার জানামতে তারা কোন প্রকার স্টেরয়েড বা হরমন ব্যবহার করেন না।