কমছে টাকার মান, বাড়ছে বেকারত্ব

0

আবারও কমলো টাকার মান। ডলারের বিপরিতে টাকার মান ১ টাকা ৬০ পয়সা কমেছে একদিনে। গত দশ দিনে ৬ টাকার উপরে কমেছে। ফলে, অর্থনৈতিক মন্দা বাড়ছে। আমরা যদি একটু পেছনের দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাব, বাংলাদেশের অর্থনীতি মোটামুটি মসৃণভাবেই অগ্রসর হচ্ছিল। বাংলাদেশ ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরই এলো করোনা মহামারি। দুই বছরে অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে করোনার ধাক্কায়। সেই ধাক্কাও সামলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল অর্থনীতি। এবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। বিশ্ব অস্থিরতার ধাক্কা লাগল বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও। নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করল। মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্ত সংসার সামলাতে বেকায়দায় পড়েছে। রপ্তানি বেড়েছে, কিন্তু টান পড়েছে রেমিট্যান্সে। এক বছরে ডলারের বিপরীতে ৩.৩৫ শতাংশ মান হারিয়েছে টাকা। ফলে পণ্য আমদানির খরচ বেড়েছে। চাপ পড়ছে রিজার্ভে।
পত্রিকার খবরে জানা যায়, গত মাসে প্যারিসভিত্তিক বহুজাতিক বাজার গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইপসোস গ্রুপ এক সমীক্ষায় বলেছে, দ্রব্যমূল্যের কারণে যুক্তরাজ্যের ২৭ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো এক বেলা না খেয়ে খরচ কমানোর চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের অবস্থা কী? বেসরকারি সংগঠন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (বিআইজিডি) গবেষণায় পাওয়া তথ্য বলছে, করোনা পরিস্থিতিতে দেশে তিন কোটির বেশি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়ে পড়েছিল। একসময় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ সংখ্যা কমে যায়। তবে সম্প্রতি নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশে নতুন করে ২১ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান দুটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনার পর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে; কিন্তু কাক্সিক্ষত কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। নতুন দরিদ্র মানুষের পরিস্থিতির উন্নয়ন হচ্ছে না। দরিদ্র মানুষ টিকে থাকার চেষ্টা করছে খাওয়া কমিয়ে, কাজের সময় বাড়িয়ে।
পিপিআরসি ও বিআইজিডি তাদের গবেষণায় বলেছে, ২৭ শতাংশ পরিবার চাল কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। আগের চেয়ে নিম্নমানের চাল কিনছে ৩৬ শতাংশ পরিবার। তবে পুষ্টির জন্য দরকারি মাছ, মাংস, দুধ কম কেনা বা একেবারে বাদ দিয়েছে তারা। ৪৭ শতাংশ পরিবার দুধের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। মান কমিয়ে দিয়েছে ২৫ শতাংশ। ৭৩ শতাংশ মানুষ মাছ কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে, বাদ দিয়েছে খাদ্য তালিকার অনেক কিছুই।
ওদিকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, চাল, ডাল, তেল, জ্বালানি, ডলারসহ সব বাজারই অস্থিতিশীল। সংকট সমাধানে তারা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলেছে। আমরা মনে করি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বেকারত্ব কমলে অভাব কমবে। আমরা আশা করবো, সরকার বেকারত্ব কমাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টি রাখবে।