সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামবে কবে

0

গতকাল সারাদিন অনলাইন পোর্টাল ও টিকিতে খবর ছিল পদ্মা সেতু দেখতে যাবার পথে দুর্ঘিটনায় চার বন্ধুসহ ৬ জন নিহত হয়েছে ঢাকা-মাওয়া সড়কে। এছাড়াও ছিল আরও কয়েকটি ঘটনা। খবরে জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে দেশজুড়ে। এর মধ্যে এমন অনেক দুর্ঘটনা ঘটে, যেগুলোকে দুর্ঘটনা না বলে হত্যাকাণ্ডও বলা যায়। লাইসেন্সহীন অদক্ষ চালক ও এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের গাড়ি এবং ফিটনেসবিহীন গাড়িতে সংঘটিত দুর্ঘটনাকে হত্যাকান্ড বলা অন্যায় হবার কথা নয়।
গত বুধবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের পাঁচজনসহ ১৫ জন নিহত হওয়ার খবর আসেনি গণমাধ্যমে। বৃহস্পতিবার খুলনায় চুকনগরে দু’জন, বাগেরহাটে দু’জনকে দিনাজপুরে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেছে দুই মোটরসাইকেল আরোহীর। ভোলায় মোটরসাইকেল নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মাছবাহী পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুই জেলে নিহত হয়েছেন। অভয়নগরে আহত হয়েছে ১০ জন। বেপরোয়া গতি, প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানো, গাড়ি চালাতে চালাতে মোবাইল ফোনে কথা বলাসহ বহু অনিয়মের কারণেও রাস্তায় মৃত্যুর মিছিল লেগেই আছে। পুলিশের হিসাবে ২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে পাঁচ হাজার ৮৮ জনের। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে দুর্ঘটনায় মারা গেছে তিন হাজার ৯১৮ জন। এক বছরের ব্যবধানে মৃত্যু বেড়েছে ২৯.৮৬ শতাংশ। পুলিশের হিসাবে ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে দুই হাজার ৬৩৫ জন। আর ২০১৯ সালে দুর্ঘটনায় চার হাজার ১৩৮ জনের মৃত্যু হয়।
অবশ্য পুলিশের হিসাবের সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠনগুলোর তথ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ছয় হাজার ২৮৪ জন। ২০২০ সালে মারা যায় পাঁচ হাজার ৪৩১ জন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে সাড়ে ১৩ শতাংশ আর মৃত্যু বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। ২০২১ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৮০৩ জনই শিক্ষার্থী।
গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারায়, তাদের মধ্যে ৬৭ শতাংশই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্ষম। আর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাবে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা এবং এর প্রভাবে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা।
দেশের সড়ক-মহাসড়কে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। মহাসড়কে ডিভাইডার হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে শ্লথগতির যানবাহন। এর পরও দুর্ঘটনা ঘটছে। গণপরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গতি ও চালকের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে সড়কে মৃত্যু কমছে না। অভিযোগ হচ্ছে, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে একটি কঠোর আইন হয়েছে কিন্তু প্রয়োগ নেই। কেনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না তা কারো জানা নেই। আমরা মনে করি, মানুষের জীবনের কথা বিবেচনা করে আইন প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।