চৌগাছার জগদীশপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা নির্বাচন দিনভর উৎসবের আমেজ

0

 

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু চৌগাছা (যশোর) ॥ ভোট মানেই যে উৎসব, ভোট মানেই উল্লাস, ভোট মানেই আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় করা তার প্রতিটি দিকই লক্ষ্য করা গেছে চৌগাছার একটি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা নির্বাচনের ভোট প্রদান দেখে। ভোটের মাঠে বসেছে পাপড়, ভাজা-মুড়ি, পান সিগারেটের দোকান, পিতার হাত ধরে ছোট্ট শিশুটি এসেছে ভোট কি জিনিস তা দেখতে। এ ধরনের ভোট বহুকাল দেখেনি স্থানীয়রা এমনটিই জানালেন ভোটের মাঠে আসা ভোটার ও সাধারণ মানুষ।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে যশোরের চৌগাছার ৬নং জগদীশপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা নির্বাচন। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী আড়কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ১০টা হতে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৪৫৯ জন ভোটার তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করবেন। নির্বাচন উপলক্ষে খুব সকাল থেকেই স্কুল মাঠে হাজির হতে থাকেন বিভিন্ন গ্রামের ভোটাররা। ভোটারের সাথে তার নিকট অত্মীয়স্বজন এমনকি পাশ্ববর্তী বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতারাও সেখানে হাজির হতে থাকেন। দীর্ঘদিন পরে একটি ভোট হতে যাচ্ছে, হোক সে দলীয় নেতা নির্বাচন সেদিকটি লক্ষ্য না করে এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ভোটের মাঠে অস্থায়ী দোকান দিতে ভুল করেন নি। ভাজামুড়ি, পান সিগারেট, বাদাম, পাপড় সেভেন আপ, কোকাকোলাসহ হরেক রকমের পরসা সাজিয়ে দোকানিরা বসে গেছেন। সময় যত বাড়তে থাকে ততই ভোট কেন্দ্রে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সারাদিনে প্রত্যেক ব্যবসায়ী সন্তোষজনক বেচাকেনা করতে পেরে খুশি। শুধু যে বেচাকেনা এমনটি না বছরের পর বছর এমন একেটি সুন্দর ও উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দেকতে পেরে তারা মহাখুশি।
ভোট দিতে আসা ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের আব্দুল মমিন, আব্দার হোসেন, নজরুল ইসলাম বলেন, দলীয় ভোট হলেও ব্যাপক উৎসাহ দেখেছি মানুষের মাঝে। এদিন বাড়ির অন্যান্য কাজ ফেলে রেখে সকল কর্মী তার মূল্যবান ভোটটি দিতে ছুটে এসেছেন পাশ্ববর্তী গ্রাম আড় কান্দিতে। দীর্ঘ দিন পর এমন একটি পরিবেশ দেখে খুবই ভাল লাগছে।
আড়কান্দি গ্রামের আব্দু সাত্তার, হেসেন আলী, আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যে কেন্দ্রে বিএনপির ভোট হচ্ছে এই কেন্দ্রে এক সময় ৩টি ওয়ার্ডের মেম্বারের ভোট হত, আর জাতীয় নির্বাচনেও এখানে ভোটগ্রহণ করা হয়। বছরের পর বছর মানুষ ভোট দিতে না পারার কষ্টে ছিল। তাই দলীয় ভোটে প্রত্যেক ভোটার উপস্থিত হয়েছে এবং স্বচ্ছন্দে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। দক্ষিণসাগর গ্রামের ইসলাম বলেন, ব্যবসায়িক কাজে বেশির ভাগ সময়ই ঢাকাতে থাকতে হয়। দলীয় ভোট তাই ছুটে এসেছি, ভোট কেন্দ্রের পরিবেশ দেখে ভিষন ভালো লেগেছে। ভোটার আনছার আলী বলেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ছোট্ট শিশু ভোট দেখবে তাই সাথে করে নিয়ে এসেছি। সে কেন্দ্রে এতো মানুষ দেখে উল্লাস করছে, পাপড় কিনে দিয়েছি এমনকি কেন্দ্রেও ঘুরে দেখেছে।
অস্থায়ী দোকানি সলেমান হোসেন বলেন, আজ বেশ কিছু দিন ধরে শুনে আসছি এখানে ভোট হবে। তাই খুব সকাল থেকেই হরেক রকমের মালামাল নিয়ে বসেছি। সারা দিনে যে বিক্রি হয়েছে তাতে আমি খুশি, তবে এ ধরনের ভোটতো বহু দিন দেখেনি তাই আরও ভাল লেগেছে।
প্রার্থী রবিউল ইসলাম, আলী বুদ্দিন খান, মহিদুল ইসলাম, আব্দুল লতিফ লতা বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতি দল, তাই নেতাদের প্রত্যক্ষ ভোটে আমাদের নেতা নির্বাচিত হচ্ছে। এখানে যেই নির্বাচিত হোক না কেন সকলেই একসাথে দলকে আরও সুসংগঠিত করব। তবে দেশের মানুষ তো বছরের পর বছর ভোট দিতে পারেনি, তাই আমাদের নেতা নির্বচানে নিজ দলের পাশাপাশি অন্য সব রাজনৈতিক দলের সাধারণ কর্মীরাও এখানে ভোট দেখতে এসেছে। ভোট মানেই যে উৎসব তা আরও একবার দেখা গেল ইউনিয়ন বিএনপির নেতা নির্বচনে অনুষ্ঠিত ভোটে।
নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালনকারী শরফুদ্দৌলা ছোটকু বলেন,একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হচ্ছে, ভোট কেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ।ভোটের সার্বিক পরিবেশ দেখে আমরা সকলেই খুশি।