যশোরে বিয়ের ছয় মাস পর অস্বীকার, কাজীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দুই পক্ষের উপস্থিতিতে কাজী এনে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে হয়েছিলো। কিন্তু সংসার করার ৬ মাস পর সেই বিয়েকে অস্বীকার করছেন সিফাত ইসলাম অনী নামে এক যুবক। বলা হচ্ছে, কোনো রেজিস্ট্রি কাবিননামা হয়নি। এ ঘটনায় ওই যুবক ও কাজীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার যশোরের আদালতে মামলা হয়েছে। সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়ার রেজাউল ইসলামের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস অর্নি মামলাটি করেছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করার জন্য কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসিকে আদেশ দিয়েছেন। একই সাথে গৃহীত পদক্ষেপ আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতকে অবহিত করার জন্য বলা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন-শহরের বেজপাড়া বুনোপাড়ার বাসিন্দা সিফাত ইসলাম অনী, তার পিতা শফিকুল ইসলাম, শরিফুল ইসলামের স্ত্রী রিফাত সুলতানা, মেহেদীর স্ত্রী লিপি খাতুন, বাচ্চুর স্ত্রী হ্যাপী ও বারান্দীপাড়ার আব্দুল মতিনের ছেলে মোশারেফ হোসেন।
জান্নাতুল ফেরদাউস অর্নি মামলায় উল্লেখ করেছেন, ২০২১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে ও সম্মতিতে মণিহার কমিউনিটি সেন্টারে অর্নির সাথে অনীর বিয়ে হয়। ৪ লাখ টাকা দেনমোহরে এই বিয়ে হয়। বিয়ে পড়ানোর দায়িত্ব পালন করেন অর্থাৎ কাজী ছিলেন মোশারেফ হোসেন। একটি নীল রঙের কাবিনামায় অর্নি ও অনীর স্বাক্ষর করানো হয়। ঘরসংসার করাকালে অন্য আসামিদের সহায়তায় আসামি অনী ব্যবসা করার জন্য স্ত্রী অর্নির কাছে যৌতুক দাবি করেন। অপরাগতা প্রকাশ করলে অনী এ সময় বলেন, তিনি অর্নিকে বিয়ে করেননি। বিয়ের কোনো কাবিননামাও হয়নি। এরপর স্ত্রীকে মারধর করে গত ১০ মার্চ পিতার বাড়িতে তাড়িয়ে দেন অনী। এ ঘটনার পর গত ২২ এপ্রিল বেলা ১১ টার দিকে অনীসহ অন্য আসামিদের খবর দিয়ে অর্নির পিতার বাড়িতে ডেকে আনা হয়। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে সালিশ বৈঠক হয়। সালিশে অনী একই কথা বলেন অর্থাৎ তিনি অর্নিকে বিয়ে করেননি বলে দাবি করেন। তাদের বিয়ের রেজিস্ট্রি কাবিননামাও নেই। পরে অর্নি কাজী মোশারেফ হোসেনের কাছে কাবিননামা চান। কিন্তু কাজী মোশারেফ হোসেন তাকে কাবিননামা দিতে অস্বীকার করেন। ফলে কোনো উপায় না পেয়ে অর্নি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।