অবৈধ ভাটার বিষাক্ত বাতাস লোকালয়ে

0

গতকাল লোকসমাজের এই কলামে আমরা লিখেছিলাম বাংলাদেশে প্রতিবছর মোট যত মানুষ মারা যায় তার ২৮ শতাংশই মারা যায় পরিবেশদূষণজনিত কারণে। এদিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় এক নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। তাতে দেখা যায়, ২০১৫ সালে নানা কারণে বাংলাদেশে আট লাখ ৪৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই লাখ ৩৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে পরিবেশদূষণজনিত কারণে। এর পরও পরিবেশদূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। গবেষকরা বলছেন, পরিবেশ দূষণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর হচ্ছে বায়ুদূষণ। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে ইটভাটা। গতকাল ঢাকার একটি পত্রিকা অবৈধ ইটভাটায় পরিবেশ দূষণ ও হাইকোর্টের আদেশ কার্যকরে গাফিলতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে ময়মনসিংহ এলাকার অবৈধ ইভাটার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহের ত্রিশালে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকা ও ফসলি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ইটভাটা। এর জন্য নেওয়া হয়নি সরকারি অনুমোদন কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। ইটখোলার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া, গ্যাস ও ধুলাবালিতে এলাকার জনস্বাস্থ্য এখন হুমকির মুখে। বিদ্যালয়ের পাশে ইটখোলা থাকায় দরজা-জানালা বন্ধ করে ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া কোনো ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। কিন্তু বাস্তবে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠছে অবৈধ ইটভাটা। এসব ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া পরিবেশের ক্ষতি করছে। কিছুদিন আগে প্রকাশিত এক খবর থেকে জানা যায়, দেশে মাত্র ৫৬ শতাংশ ইটখোলা বৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। আর বাকি ৪৪ শতাংশ ইটখোলা অবৈধ। এসব ইটখোলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে। ফলে পরিবেশগত বিপর্যয়সহ জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। বাস্তবতা হচ্ছে, আইন না মানার এই চিত্রটি শুধু ত্রিশাল নয়, এ চিত্র সারাদেশের। আমাদের যশোরে এখন অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা ১৪০টিরও বেশি। এসব ইটভাটার অনেকগুলোই স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, কলেজ, ফসলি জমি ও জনবসতির মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। ভাটা মালিক ও প্রশাসন জানে এগুলো অবৈধ। গত বছর পরিবেশ অধিদপ্তর বেশ কিছু ভাটা ভেঙে দেয়। কারো কারো ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করে। তার পরও সে সব ভাটা চলছে বহাল তবিয়তে।