ফ্যামিলি কার্ড বাড়াতে হবে

0

টিসিবি এবার নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। বস্তুত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এ সময়ে দরিদ্র মানুষের সাশ্রয়ে এমন পদক্ষেপের দাবি ছিল কয়েক বছর ধরে। শেষ পর্যন্ত সোমবার একযোগে দেশের সব জেলায় চালু করা হয়েছে। তবে বরাবরের ন্যায় দুঃখজনকভাবে প্রথম দিন কয়েকটি স্থানে হট্টগোল, ধাক্কাধাক্কি, কার্ড বিতরণ ও ডিলার নিয়োগে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। বিতরণকারী কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাব থাকায় এমনটি ঘটেছে। এসব সংকট কাটানো কঠিন হবে না বলেই আমরা মনে করি।
গত ক’বছর ধরে আমরা দেখেছি, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দিন দিন টিসিবির ট্রাকের পেছনে মানুষের সারি লম্বা হচ্ছে। এ বছর টিসিবির ট্রাকের লাইনে মধ্যবিত্তের দাঁড়ানোর ছবিও সংবাদমাধ্যমে ছাপা হয়েছে। চাহিদার চেয়ে ট্রাকগুলোতে পণ্য সরবরাহ কম থাকায় প্রতিদিন অনেক ক্রেতাকে পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাওয়ার দৃশ্য আমরা দেখেছি, ট্রাকের পিছনে একটি প্যাকেটের জন্য দৌঁড়ানোর দৃশ্য সকলকে ব্যথিত করে। এমন পরিস্থিতিতে টিসিবির মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড চালুর সরকারি এ উদ্যোগে উপকৃত হবে বলেই আমরা মনে করি। এক কোটি পরিবারে এ কার্ডের মাধ্যমে অন্তত চার কোটি মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। তবে, বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, করোনার প্রভাব ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার কারণে অন্তত ছয়-সাত কোটি মানুষ সংকটে আছে। আরও অধিকসংখ্যক মানুষকে সুযোগ দিতে ফ্যামিলি কার্ডের আওতা বাড়ানো জরুরি।
টিসিবির তথ্য অনুসারে, একই কার্ডধারী দুই কিস্তিতে পণ্য কিনতে পারবেন।
প্রথম দফায় ৩০ মার্চ এবং দ্বিতীয় দফায় ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এ সুযোগে কার্ডধারী সুলভ মূল্যে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে পারবেন। আসন্ন রমজান সামনে রেখে পণ্য হিসেবে ছোলা ও খেজুরের অন্তর্ভুক্তিও ইতিবাচক। তবে আমরা মনে করি, কার্ডের মাধ্যমে সুলভ মূল্যে টিসিবির পণ্য কেনার এ ব্যবস্থা স্থায়ীকরণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। টিসিবির পারিবারিক কার্ডসহ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যেমন অব্যাহত রাখতে হবে, একই সঙ্গে স্বাভাবিক বাজারেও নজর রাখা প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদে বাজারে অস্থিতিশীলতার কারণে মধ্যবিত্তও যেভাবে চাপে পড়ছে, তা অস্বীকারের উপায় নেই। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বাজারের স্থিতিশীলতা আনতেই হবে। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের পণ্য যথাসময়ে নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজারেও জোগান স্বাভাবিক রাখার মাধ্যমে সবাই উপকৃত হবে এবং জনমনে স্বস্তি আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস।