গরিবের হাসি ফোটাতে আরেকটি ধমক দিন

0

গতকাল প্রকাশিত পত্র-পত্রিকায় একটি খবর আমাদের দৃষ্টি কেড়েছে। খবরটি রবিবার টিভিতেও গুরুত্ব পেয়েছিল। পাবারই কথা কারণ খবরটির সাথে ১৮ কোটি মানুষেরই স্বার্থ জড়িত। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্তের সব মানুষের স্বাভাবিক সম্পর্ক রয়েছে। দৈনিক লোকসামজে খবরটির শিরোনাম ছিল ‘মন্ত্রীর ধমকে চালের দাম কমলো ২ টাকা’এ রকমই প্রায় শিরোনাম হয়েছে সব সংবাদ মাধ্যমে। সংবাদে বলা হয়েছে, কুষ্টিয়ায় মজুতদারি রোধে করণীয় ও বাজার তদারকি সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার চাল কল মালিক, আমদানিকারক ও মহাজনদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে মন্ত্রী চালের দাম কমানোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘আগামীকাল (গতকাল) থেকে চালের দাম বাড়া দূরের কথা, যদি না কমে আমরা যত ভালো কথা বলি না কেন, আমাদের প্রশাসন কিন্তু ততো ভালো থাকবে না’। বৈঠকে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য সচিব, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ। বৈঠকের পর ব্যবসায়ীরা ঘোষণা দেন চিকন চালেনর দাম কেজিতে ২ টাকা হারে কমবে। খবরটি স্বাভাবিক ভাবেই ভাইরাল হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের রেকর্ড মূল্য থেকে মন্ত্রীর ধমকে ২ টাকা কমে যাওার খবরটিও তো নজিরবিহীন। খবরটি তাই ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। খবরে চাল কিনে খাওয়ার ধনীক শ্রেণি খুশি হলেও খুশি হতে পারেনি সর্ববৃহৎ ক্রেতাগোষ্ঠী। তারা বরং হতাশই হয়েছে।
এ হতাশা খুব স্বাভাবিক নয়, কারণ চাল কিনে খাওয়া মানুষের ৭৫ ভাগই মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, গরিব, দিনমজুর ও ভূমিহীন শ্রেণির মানুষ। এদের মধ্যে খুবই কম সংখ্যক আছে যারা চিকন চালের ভাত খান। বাকি সব মানুষের বাঁচার ভরসা মোটা চাল। বাজারে এ চালের দামও রেকর্ড মাত্রায়। সর্বস্তরের মানুষের দাবিই মূলত মোটা চালের দাম কমানো। কিন্তু সে ব্যাপারে কোনো আশ্বাস না থাকায় মূল্য কমানোর বিষয়টি তাদের কাছে কোনো আনন্দ বয়ে আনেনি। তেল, চিনি, লবণ, ডাল, আলু, পিঁয়াজসহ সকল নিত্যপণ্যের আকাশ ছোঁয়া মূল্যের বাজারে মোটা চালের দাম একটু কমলে তাদের কিছুটা সাশ্রয় হতো, আমরা মনে করি, বাজার শেষে দশ টাকা সাশ্রয় গরিবের জন্য অবশ্যই স্বস্তির। ওই দশ টাকায় স্কুল পড়–য়া বাচ্চার খুশিটাও কিনতে পারবেন তিনি। আমরা এই খুশিটা সব ঘরেই প্রত্যাশা করি।
আমরা আশা করবো, মন্ত্রী মহোদ্বয় গরিবের মুখে হাসি ফোটাতে আরেকটি কড়া ধমক দিবেন। যে ধমকে অন্তত ৫ টাকা কমে আসবে মোটা চালের দাম। ঘরে ঘটে ফুটবে হাসি। অবশ্য ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা করলে নিজেরাই এ হাসিটা কিনতে পারেন অল্প দামেই।