ভোজ্য তেলে হেরফের নেই

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ দেশে ভোজ্য তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী সমিতির সদস্য ছয় কোম্পানির কাছে এক লাখ ৯৫ হাজার ৬৩৬ টন ভোজ্য তেল মজুত রয়েছে। তবুও বাজারে সরবরাহ বাড়েনি নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটির। অধিকাংশ দোকানেই পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। আজ রাজধানীর হাতিরপুল, বিএনপি বাজার, কাওরান বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানে খোঁজ নিয়ে ভোজ্য তেলের সরবরাহের এই সংকটাপন্ন চিত্র দেখা গেছে। দোকানদাররা জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরে কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়েছে। কোম্পানির গাড়ি আসছে না। ২/১টি কোম্পানির গাড়ি আসলেও তারা চাহিদা অনুযায়ী তেল দিচ্ছে না। মার্চ মাসের প্রথমদিন থেকেই ডিলারদের কাছ থেকে তারা তেল পাচ্ছে না। অন্যদিকে পাইকারি বাজারে গিয়েও চাহিদা অনুযায়ী খোলা তেল পাওয়া যাচ্ছে না। হাতিরপুলের এক ব্যবসায়ী বলেন, কোম্পানি বা ডিলার কেউই চাহিদা অনুযায়ী তেল দিচ্ছে না। তাছাড়া বোতলজাত তেলের দামও বেশি রাখা হচ্ছে। পাঁচ লিটারের বোতলে মাত্র ১০ টাকা লাভ থাকে। এত সীমিত লাভে কোনো দোকানদার তেল আনতে চায় না। এজন্য অনেক দোকানে তেল নাই।
বাজারে আসা আক্তার হোসেন বলেন, এক লিটার সয়াবিন তেল কিনতে আজ ৪ দোকান ঘুরতে হয়েছে। এরমধ্যে দুইটি দোকানে সয়াবিন তেল নাই। অন্য দুই দোকানে থাকলেও এক লিটার বোতলের কোনো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পাঁচ লিটারের বোতল রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছে শেষ হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ভ্যাট কমিয়ে দেয়ার পরও কেন ১৭০ টাকা দিয়ে তেল কিনতে হবে? একবার কোনো জিনিসের দাম বাড়লে তা আর কমে না। ব্যবসায়ীদের নানান বাহানা চলতে থাকে। চাল, মুরগি, মাংস, তেল, চিনি, ডাল, আলুসহ প্রায় সবকিছুরই দাম বেড়েছে। সামনে রোজা আসছে, এসব পণ্যের দাম আরও বাড়বে। আমাদের মতো কম আয়ের মানুষদের টিকে থাকাই কষ্টকর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিলার বলেন, তেল নেয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিকে অনেক টাকা দিয়ে রেখেছি, কিন্তু তারা পর্যাপ্ত তেল দিচ্ছে না। মাঝে মাঝে এসে কিছু তেল দিয়ে যাচ্ছে। তীর কোম্পানির তেল কিছুটা পাওয়া গেলেও অন্য কোম্পানির পাওয়া যাচ্ছে না। রূপচাদা কোম্পানি থেকে এখন কেউ আসছেই না। তিনি বলেন, ডিলার হিসেবে কোম্পানি থেকে আগে যে পরিমাণ লাভ থাকতো, এখন সে পরিমাণ থাকে না। তবে কাস্টমার ধরে রাখার জন্য তেল রাখতে হয়। তেল বিক্রি করে আমাদের তেমন লাভ হয় না। লাভ হয় আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর।
এদিকে ভোজ্য তেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সমিতির সদস্য ছয় কোম্পানির কাছে বর্তমানে এক লাখ ৯৫ হাজার ৬৩৬ টন ভোজ্য তেল মজুত রয়েছে। এরমধ্যে পরিশোধিত ভোজ্য তেল ১৯ হাজার ৭৩৭ টন এবং অপরিশোধিত তেল এক লাখ ৭৫ হাজার ৮৯৯ টন। আর আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে এক লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ টনের। বিভিন্ন সময়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে বছরে মোট ২০ লাখ টন ভোজ্য তেলের চাহিদা রয়েছে। এতে মাসে গড়ে দেড় লাখ টনের কিছু বেশি ভোজ্য তেল দরকার পড়ে। কিন্তু কোম্পানিগুলোর কাছে প্রায় দুই লাখ টন মজুত রয়েছে। গত বছর আমদানি হয়েছে ২১ লাখ ৭১ হাজার টন। বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের সচিব বলেন, কতটুকু তেল মজুত আছে সেটা কোম্পানিরা বলতে পারবে। এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মিটিং-এ আমরা তেলের মজুত সম্পর্কে জানিয়েছি। ভ্যাট প্রত্যাহারের ফলে তেলের দাম কতটুকু কমতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আগে আমদানি করা তেলে ভ্যাট দিতে হয়েছে। ভ্যাট দিয়ে আমদানি করা তেল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম কমবে না। সেক্ষেত্রে রোজার আগে তেলের দাম কমছে না। ভ্যাট বাদে তেল আমদানি করা হলে তেলের দাম ২ থেকে ৩ টাকা কমতে পারে।