ক্ষমতাধরদের জন্য হতে পারে শিক্ষনীয়

0

ফরিদপুরের বহুল আলোচিত ২ হাজার কোটি টাকা পাচার মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাবর সাবেক প্রভাবশালী এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছোট ভাই গত মঙ্গলবার ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বাবর জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সহসভাপতি। তার গ্রেফতারের খবরে দলের একটি অংশ শহরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে। তারা চান বিচার হোক দৃষ্টান্তমূলক। পাপের হোক কঠিন সাজা।
পুলিশ জানায়, বাবর দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বাবর ফরিদপুর উপজেলার সাবেক চেযয়ারম্যান ছিলেন। ওই সময় খন্দকার বাবরের ছত্রচ্ছায়ায় ফরিদপুরের কুখ্যাত হেলমেট এবং হাতুড়ি বাহিনী পরিচালিত হতো । খবরে বলা হয়েছে, বিগত আওয়ামী শাসনামলের সরকার প্রধানের নিকটাত্মীয় পরিচয়ে বাবর ফরিদপুরের রাজনীতি থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট সবই নিয়ন্ত্রণ করতেন। পুলিশ প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায়, ফরিদপুরের বহুল আলোচিত দুই ভাই রুবেল ও বরকতের অবৈধ বিপুল অর্থের মালিক হওয়ার পেছনে ছিলেন বাবর। জেলার সকল সরকারি দপ্তরের টেন্ডার বাণিজ্য থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা সংগ্রহ করতেন বাবর। এছাড়াও তার হাতুড়ি ও হেলমেট বাহিনী চাঁদাবাজি, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় করতো।
সূত্র জানায়, এসবিই তারা করেছে প্রধানমন্ত্রীর আপান আত্মীয় পরিচয়ে সৃষ্ট ক্ষমতার দাপটে। এরপর আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন হবার পর ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ মন্ত্রীত্ব হারান। পরে ২০২১ সালের ৩ মার্চ দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের চাঞ্চল্যকর মামলায় মোহতেশাম হোসেন বাবরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস। এ মামলার অপর আসামিরা হলেন- শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ছোট ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেল, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও মন্ত্রীর এপিএস এএইচএম ফুয়াদ, শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার নাজমুল ইসলাম লেভী, যুবলীগ নেতা আশিকুর রহমান ফারহান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ওরফে ফাহিম, যুবলীগ নেতা কামুল হাসান ডেভিড, মোহাম্মদ আলী দিদার ও তারিকুল ইসলাম নাসিম।
এই মামলার একটি বড় দিক হচ্ছে আসামিরা সবাই সরকারি দল করেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন আছেন। এরা আত্মীয়তার গায়ে কলঙ্কলেপন করেছে। সরকার প্রধান ও তাঁর দলকে ব্যবহার করছে। আত্মীয়তা ছিন্ন না হলে এদের ‘হরিলুট’ এতদিন কোথায় থামতো তা কেউ ভাবতেই পারবে না। তবে, সুখবর ও স্বস্তির খবর হচ্ছে ক্ষমতাধররা গ্রেফতার হয়েছে, বিচারের মুখোমুখি হয়েছে। এতে প্রমাণ হয়েছে, ক্ষমতা হারালেই যত বড় ক্ষমতাধরই হোক না কেন বিচারের কাঠগড়ায় তাকে দাঁড়াতেই হবে। প্রশাসন তার দায়িত্ব কোনোভাবে অবহেলা করবে না। আমরা ফরিদপুর আওয়ামী লীগের মতো চাই বিচারে এমন রায় হোক যা দেখে সব ক্ষমতাধরের বুক কেপে যায়।