মোংলায় ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকে এখনো শুরু হয়নি কয়লা উত্তোলন

0

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা ॥ মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল এলাকায় লাইটার জাহাজ ডুবে যাওয়ার তিনদিনেও কয়লা উত্তোলন শুরু করেনি মালিকপক্ষ। যদিও শনিবার সকাল থেকে ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজ ‘এমভি নওমী’ থেকে কয়লা উত্তোলনের নির্দেশনা ছিল বন্দর কর্তৃপক্ষের। গত বৃহস্পতিবার রাতে ৬শ’ টন কয়লা নিয়ে পশুর চ্যানেলের চার নম্বর বয়া এলাকায় এই জাহাজটি ডুবে যায়। এতে দুই নিরাপত্তা কর্মীসহ ৮ নাবিক জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হন। শুক্রবার রাতে এ ঘটনায় লাইটার জাহাজের মাস্টার মো. আজিজুল হক মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ডেপুটি হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, লাইটার জাহাজ ‘এম ভি নওমী’ বন্দরের পাঁচ নম্বর বয়ায় অবস্থানরত পানামা পতাকাবাহী ‘সিএমভি জর্দান’ বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে কয়লা বোঝাই করে চার নম্বর বয়ার কাছে এসে তলা ফেটে ডুবে যায়। এ ঘটনার পর পরই সেখানে পরিদর্শন করে মার্কিন বয়া স্থাপন করেন তারা। তবে এতে বন্দরের নৌ চ্যানেল ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে শনিবার সকাল থেকে কয়লা উত্তোলন এবং আগামী ১৫দিনের মধ্যে লাইটার জাহজটি উত্তোলনের ব্যবস্থা করতে নির্দেশনা দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে সে কাজ শুরু করেনি ওই জাহাজের মালিকপক্ষ। জাহাজটির মাস্টার আজিজুল হকের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলতে একাধিকবার ফোনে কল দেয়া হলেও তাতে সাড়া পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বাগেরহাটের আহবায়ক মো. নুর আলম শেখ বলেন, কয়লা একটি বিষাক্ত ময়লা। এই কয়লার জন্য সুন্দরবনের মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে। একই সাথে কয়লা মিশ্রিত পানি খেয়ে জলজ প্রাণী এবং পশুর নদীর খাদ্য শৃঙ্খলারও মারাত্মক ক্ষতি হবে। তাই দ্রুত এই কয়লা অপসরণের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদাসীনতার কারণে বারবার এই নৌ দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব ব্যাপারে তাদের আরও সতর্ক হওয়ার কথা বলেন তিনি। উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ নভেম্বর কয়লা নিয়ে পশুর নদীতে আরও একটি লাইটার জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটে।