খুলনায় অস্থির কাঁচাবাজার

0

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা॥ খুলনা মহানগরীর বাজারগুলোতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পণ্যের দাম। আগে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বাড়তো আর এখন সকালের দাম বিকেল হতেই পাল্টে যাচ্ছে। সংসারের কর্তারা বলছেন, ‘কাঁচাবাজারে যাওয়ার কথা চিন্তা করলে গায়ে জ¦র আসে।’ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ৫৫ থেকে বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে। আর কাঁচা মরিচ একশ’ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে। নগরীর মুদি দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল মিললেও উধাও হয়ে গেছে খোলা তেল। প্রতিটি এক লিটারের বোতল দোকানিরা ১৮০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তবে পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দোকানিরা বলছেন, কোম্পানি থেকে সরবরাহ নেই।
সোনাডাঙ্গাস্থ ট্রাক টার্মিনালের কাঁচা মরিচের ব্যবসায়ী শেখ লুৎফর রহমান বলেন, পরিবহন খরচ বেড়েছে। শ্রমিকের কদরও বেড়েছে। বগুড়া, কাজীরহাট ও ময়মনসিংহের মাদারগঞ্জ কাঁচা মরিচের বড় মোকাম। সেখান থেকে দেশে প্রতিটি প্রান্তে কাঁচা মরিচ সরবরাহ করা হয়। ওই মোকামগুলোতে মরিচের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। মরিচের গাছ মারা যাচ্ছে। মোকামগুলোতে আমদানি কমে গেছে। চাহিদার তুলনায় সেখানে ভিড় করছেন অধিক ব্যাপারী। প্রতিদিন খুলনার বাজারে ৭ ট্রাক কাঁচা মরিচ প্রয়োজন। সেখানে ৪ ট্রাক মাল আসছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। বাজারে ভারতীয় মরিচ নেই। শনিবার পাইকারী বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি মরিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি। একই বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম বয়াতি বলেন, ফরিদপুর জেলার ‘পেঁয়াজ কালি হাট’ দেশের বড় পেঁয়াজের মোকাম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে ব্যাপারীরা সেখানে এ পণ্যটি কিনতে আসেন। এখন কালিকাটা পেঁয়াজের মৌসুম শেষ পর্যায়ে। প্রতিবছর এ সময়ে দাম বাড়তি থাকে। তবে এবার বেশি বাড়েনি। মাঝে ভারি বৃষ্টির কারণে দাম বেড়ে আবার কমে গিয়েছিল। তবে মোকামগুলোতে পেঁয়াজের সঙ্কট থাকায় সেখানে দাম বেড়েছে। বেড়েছে পরিবহন খরচও। মানভেদে প্রতিকেজি পেঁয়াজে দু’তিন টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। তবে চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে এর দাম স্বাভাবিক হবে। তখন দাম ৩০ থেকে ৩২ টাকার মধ্যে থাকবে।
নগরীর ময়লাপোতা সান্ধ্যা বাজারের এক কাঁচা মরিচ বিক্রেতা বলেন, চারদিনের ব্যবধানে প্রতিকেজিতে দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। জিয়া ও কাজীরহাটের সাদা মরিচ ৮০ টাকা ও বগুড়ার বরজ মরিচ ১২০ টাকায় বিক্রি করছেন। মূল্যবৃদ্ধির কারণ তিনি জানেন না। তবে পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনে তাকে এ দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তারের পুকুরের পাশে অস্থায়ী বাজারের বিক্রেতা শহীদুল জানান, চার দিন হলো দাম বেড়েছে। তিনি মানভেদে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৫৭ থেকে ৬০ টাকা করে বিক্রি করছেন। বেশি দামে কিনে তাকে এ দরে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান। কয়েকটি খুচরা দোকানে এক লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের দেখা মিললেও পাঁচ লিটারের বোতলের দেখা মেলেনি। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, দোকানে এক লিটারের কয়েকটি বোতল থাকলেও খোলা তেল তাদের দোকানে নেই। রফিকুল ইসলাম বাবু নামের একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চারকরিজীবী ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘ভদ্রস্থভাবে সমাজে টিকে থাকার আর কোন উপায় নেই। বাজার থেকে কিনেকেটে খেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁচতে চাইলে চুরি চামারি করতে হবে, নইতো সংসার ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপন করতে হবে।’