খুন দুর্নীতি থামাতে হবে

0

উন্নয়নের সুফল নিশ্চিতে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। নানামাত্রিক অপরাধের মধ্যে শুধু খুনের ঘটনা বিশ্লেষণ করে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে প্রতিদিন সারা দেশে গড়ে সাতজন করে খুন হয়েছে। মোট হত্যাকাণ্ড ঘটেছে চার শর বেশি। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলেছে, ২০২০ সালে সারা দেশে খুন হয়েছে তিন হাজার ৫৩৯ জন। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ জন করে খুন হয়েছে ওই বছর।
পত্রিকাটি লিখেছে, অপরাধ বিশ্লেষকদের ধারণা, শুধু সামাজিক, পারিবারিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরেই খুনখারাবি ঘটছে, বিষয়টি এমনও নয়। তাঁদের মতে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর গাফিলতিও এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট। আছে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা এবং আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ার ঘটনা। অন্যদিকে পুলিশের অপরাধ পরিসংখ্যান বলছে, তিন বছর ধরে তুচ্ছ কারণে হত্যার ঘটনা বাড়ছে। পারিবারিক সহিংসতার ঘটনাও বেড়েছে। ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্টতা ও পারিবারিক বিরোধের কারণেও খুনের ঘটনা ঘটছে। এর জন্য পারিবারিক বন্ধনে ছন্দঃপতন ও প্রযুক্তির অপব্যবহারকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ড থেকে প্রমাণিত হয়, এক অসহিষ্ণু সময় পার করছি আমরা। সরকার ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাব্ িকরছেন।
দেশ উন্নয়নের রোল মডেল হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নত দেশ হিসেবে আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে চাইছে। এ নিয়ে কোন মন্তব্য কেউ না করলেও বিবেকবান সাএই বলছে সত্যিকারের মানবিক সমাজ যদি গঠন করা সম্ভব না হয়, তাহলে এই উন্নয়নের সুফল মানুষ ভোগ করতে পারবে না। উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে খুন, ধর্ষণ সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদক নির্মূল থেকে উত্তরণের কোনো বিকল্প নেই। সমাজ থেকে এই বর্বরতা দূর করার উপায় কী? বিষয়টি নিয়ে আমাদের নীতিনির্ধারকদের ভাবতে হবে। প্রয়োজনে এই নৃশংসতার বিচারে আইনের কোনো পরিবর্তন আনা যায় কি না সে বিষয়টিও ভেবে দেখা দরকার। নির্মমতা-নৃশংসতা দিন দিন বাড়ছে কেন? সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করা যায় না বলেই আমাদের সমাজে অপরাধ এক ভয়ানক রূপ নিচ্ছে। জঘন্য অপরাধীরা সমাজকে কলুষিত করছে। মানুষের মানবতাবোধকেও লাঞ্ছিত করছে। সামাজিক অসহিষ্ণুতাও অপরাধপ্রবণতার জন্য দায়ী।
অপরাধপ্রবণতা রোধ করার জন্য যদি আইন-কানুন ও নিয়মনীতির সুষ্ঠু প্রয়োগ না থাকে, তাহলে অপরাধ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা অস্বাভাবিক নয়। এ বিষয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে আরো তৎপর হতে হবে। বেরিয়ে আসতে হবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে। আইনের যথাযথ প্রয়োগই পারে অপরাধপ্রবণতার লাগাম টানতে হবে। আমরা আশা করি, সরকার তার উন্নয়নের সফল ভোগের প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি ও দুর্নীতিরোধে সক্রিয় হবে।