আমদানিতে বিশ্বে দ্বিতীয়, তবুও বাড়ছে চালের দাম

0

গতকাল প্রকাশিত দৈনিক লোকসামজের প্রধান খবরের শিরোনাম ছিল ‘ছয় মাসে অবিশ্বাস্য চাল আমদানি তবুও প্রভাব নেই দামে’। বর্তমান বাজারে চাণের আকাশ ছোঁয়া মূল্যের মাঝে বেশুমার আমদানি এবং তার প্রভাব না থাকার খবরটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমন ধানের ভরা মওসুমে বেশুমার চাল আমদানির স্বাভাবিক ফল হবার কথা মূল্য ধ্বস। অথচ, বাস্তবতা হচ্ছে উল্টো। শূল্য ধ্বসের বদলে চালের মূল্য বৃদ্ধির রেকর্ড স্থাপন বিষয়টি অর্থনীতির কোনো সূত্রে মেলাতে পারছেন না বাজার বিশ্লেষজ্ঞরা।
আমেরিকান কৃষি বিভাগও তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে বলা যায়। বাংলাদেশে চালের রেকর্ড মূল্যের মাঝে তাদের খবর হচ্ছে বাংলাদেশ চাল আমদানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তাদের এই তথ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে তাহলে আমদানি করা চাল কোথায় গেল ? প্রশ্ন জাগে যে এলসির সূত্র ধরে নজিরবিহীন আমদানির হিসাব করা হয়েছে সেই এলসিতে চাল আনা হয়েছে কি-না ? অভিযোগ আমাদের দেশ থেকে যে লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে তার সিংহভাগই গেছে এলসির মাধ্যমে। বৈধ বাণিজ্যের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে ব্যাংকের লোনের টাকা বিদেশে পাচারের এলসি। চাল আমদানির এলসি এ পাচারের মাধ্যম হয়েছে কি-না তা গভীর পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে- গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে (ছয় মাস) যে পরিমাণ চাল আমদানি হয়েছে, এর আগে কখনও এত চাল আমদানি হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চাল আমদানিতে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর, এ ছয় মাসে চাল আমদানির এলসি খোলার হার বেড়েছে ৬০৯ শতাংশ। আর এলসি নিষ্পত্তির হার বেড়েছে ১৮ হাজার ৬৬২ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর চাল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছিল ৪ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের। ২০২১ সালের একই সময়ে এলসি খোলা হয় ৩২ কোটি ১২ লাখ ডলারের। একইভাবে আগের বছরের ছয় মাসে চাল আমদানির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল মাত্র ২৪ লাখ ডলারের। ২০২১ সালের একই সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৬ কোটি ১৭ লাখ ডলারের। অবশ্য চাল উৎপাদনে বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন স্বয়ংসম্পূর্ণ দাবি করে আসছে সরকার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশ এখন বড় আমদানিকারক। ইউএসডিএ’র তথ্যানুযায়ী চাল আমদানিতে এখন বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয়। এক নম্বরে আছে চীন। এরপর আছে ফিলিপাইন, নাইজেরিয়া ও সৌদি আরব।
অবশ্য চাল আমদানি বাড়লেও বাজারে কোনও প্রভাব নেই দামে। সরকারি তথ্যই বলছে, দেশে মোটা চালের কেজিই এখন ৫০ টাকা। সরু চাল কিনতে গুনতে হচ্ছে ৬৮ টাকার মতো। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য বলছে, গত এক বছরে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে (জুলাই- জুন) চাল আমদানির জন্য ৮৭ কোটি ৬২ লাখ ডলারের এলসি (ঋণপত্র) খোলা হয়েছে। আগের অর্থবছরে (২০১৯-২০২০) জুলাই-জুন সময়ে মাত্র ২ লাখ ৫৩ হাজার ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আড়াই লাখ থেকে সাড়ে ৮৭ কোটিরও বেশি ডলারের এলসির বিষয় তদন্ত করলে আমদানি ও মূল্য বৃদ্ধির আসল কারণ বেরিয়ে আসবে বলে অনেকের মতো আমরাও মনে করি।