ঝিকরগাছায় ভিডিপি’র জমি জাল-জালিয়াতি করে বিক্রির অভিযোগ

0

ঝিকরগাছা (যশোর) সংবাদদাতা॥ যশোরের ঝিকরগাছায় আনসার ভিডিপি জমি জাল-জালিয়াতি করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে দলনেতা আল এমরানের বিরুদ্ধে। এছাড়া আনসার ভিডিপি’র সদস্যদের নির্বাচনকালীন ডিউটির প্রায় লক্ষাধিক টাকা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছেন উপজেলা আনসার ভিডিপি’র অনন্ত ১৫ জন সদস্য। এদিকে, অব্যাহত প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় গত বুধবার উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন প্রতারক যুবক আল এমরান। এসব ঘটনায় উপজেলার হাড়িয়াদেয়াড়া আনসার ভিডিপি উন্নয়ন গ্রাম বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমানের করা বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি’র মহা পরিচালক বরাবর করা অভিযোগ করেছেন। যার অনুলিপি কপি দেয়া হয়েছে,ুত্রে জানাগেছে। যশোরের জেলা প্রশাসক, ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান, ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ঝিকরগাছা সাব-রেজিষ্ট্রার ও উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা বরাবর। যা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবের সংবাদ কর্মীদের কাছে দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, ঝিকরগাছা পৌরসদর ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ডাঃ রবিউল ইসলামের আল এমরান ঝিকরগাছা আনসার ভিডিপি’র ১নং ওয়ার্ডের দলনেতা এবং একই সাথে ঝিকরগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ হিসেবে কর্মরত। তিনি প্রতারনা করে হাড়িয়াদেয়াড়া আনসার ভিডিপি বহুমূখি সমবায় সমিতি লিঃ এর নামে ৩৬নং হাড়িয়াদেয়াড়া মৌজার কবলা দলিল (যার নং- ৪৫৬৯) মূলে ক্রয়কৃত ৭৬৭নং খতিয়ানের সিএস ১১৮১ নং দাগের ৩.২৫ শতাংশ জমি নিজের নামে ভূয়া জাল-জালিয়াতির মাধ্যেমে এফিডেভিট দেখিয়ে ৪লাখ টাকায় বিক্রি করে। উল্লেখিত জমি আনসার ভিডিপি সদস্যদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও আনসার ভিডিপি’র অন্যান্য সদস্যদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে এই সমবায় সমিতি গঠন ও জেলা প্রশাসক, যশোরের পক্ষে খরিদ করা হয়। সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান সাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ পত্রে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য উঠে এসেছে।
অপরদিকে বিভিন্ন ইউনিয়ন কমান্ডার ও দলনেতাদের বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও করোনাকালীন ডিউটির প্রাপ্য মজুরিভাতা, কল্যাণ তহবিল খরচ, ভিডিপি সদস্য কার্ড প্রদানসহ আনসার ভিডিপি’র সদস্যদের মৌলিক প্রশিক্ষণের বরাদ্ধের টাকা আত্মসাত, আম্ফান ঝড়ে ক্ষতি গ্রস্থদের ত্রাণের টিন ও ক্ষতিপূরণের অর্থ পাইয়ে দেবার কথা বলে সদস্যদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে অন্তত্ব ১৫টি অভিযোগ জেলা ও উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা বরাবর দেয়া হয়েছে। অভিযোগ কারিরা হলেন, উপজেলার গদখালি ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের নজরুর ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ সাথিয়া বেগম, শংকরপুর ইউনিয়নের জগদানন্দকাঠি-বাাঁকুড়া গ্রামের মৃত. রঞ্জন সরকারের ছেলে দিপক সরকার, বাঁকড়া ইউনিয়নের আনসার ভিডিপি’র সহকারি কমান্ডার মোঃ জাহিদুল ইসলাম, ঝিকরগাছা পৌরসদরের ২নং ওয়ার্ডের দলপতি মোঃ আনিছুর রহমান, একই ওয়ার্ডের দলপতি জুয়েল রানা, গদখালি ইউনিয়নের দলপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম, নির্বাসখোলা ইউনিয়নের সহকারি কমান্ডার মোঃ ইয়াছিন আলী ও একই ইউনিয়নের দলনেত্রী মোছাঃ তহমিনা খাতুন, হাজিরবাগ ইউনিয়নের দলনেত্রী মোছাঃ রোজিনা খাতুন, পানিসারা ইউনিয়নের দলনেত্রী মোছাঃ রেশমা খাতুন, ঝিকরগাছা পায়রাডাঙ্গা গ্রামের জহিরুল ইসলাম ও একই গ্রামের মুন্তাজুর রহমানের ছেলে মনিরুজ্জামান। এ ব্যাপারে, সদ্য যোগদানকারী উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার ফিরোজা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি লিখিত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে সংস্থার জমি বিক্রির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে জেলা আনসার ভিডিপি’র সহকারি কমান্ড্যান্ট শহিদুল ইসলাম ও সার্কেল অ্যডজুটেন্ট তদন্ত পূর্বক অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন । যা চলমান অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন। অভিযুক্ত আল এমরান (০১৭৭৪-৭৪৬৫৮৭) নাম্বার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে, তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন সকল অভিযোগের তদন্ত চলছে।