পাচার বন্ধে দুর্নীতিই বড় বাধা

0

সম্প্রতি এক রাতে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। আকর্ষণীয় পেশায় চাকরির কথা বলে, ক্ষেত্রবিশেষে টাকা দিয়ে নারীদের বিদেশে পাচার করে আসছিল চক্রটি। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানিয়েছে, তাঁরা তরুণীদের আকর্ষণীয় পেশায় চাকরির কথা বলে লোভে ফেলে বিদেশে বিক্রি করে দিতেন। গত এক বছরে এই চক্রের কয়েকশ’ জনকে গ্রেপ্তারের পরও থেমে নেই চক্রের সদস্যরা। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী চক্রটি এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০ জন নারীকে পাচার করেছে। বেশি পাচার করা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এ ছাড়া সৌদি আরব ও ওমানেও বেশ কিছু নারী পাচার করা হয়েছে।
র‌্যাব জানায়, গত বছর এক বাংলাদেশি তরুণীর যৌন নির্যাতনের ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার পর নারী পাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছিল দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। তখনই জানা যায়, দেড় হাজারের বেশি নারীকে ভারতে পাচার করা হয়েছে। তরুণী ও কিশোরীদের ভিডিও শেয়ারিং সাইট টিকটক ও লাইকিতে অভিনয়ের টোপ দিয়ে পাচার করা হয়। এই তরুণী ও কিশোরীদের ধর্ষণের পর নানা ভয় এবং মডেল বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে আটকে রাখা হতো। মডেল হওয়ার স্বপ্নে ও আতঙ্কে তাঁরা মুখও খুলতেন না।
সরকারি মহলের দাবি অনুযায়ী- আমাদের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিকে ম্লান করে দিচ্ছে নারী পাচারের ঘটনা। অভিবাসন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মানবপাচারকারী চক্রের বিস্তৃতির পেছনে বিচারহীনতাই দায়ী। দিনের পর দিন মামলার অগ্রগতি হয় না। দোষীদের আইনের আওতায় আনার হার একেবারেই কম। স্বাক্ষীদের নিরাপত্তা দেয়া হয় না। এমনকি মানবপাচারের ছয়-সাতটি মামলা থাকা সত্ত্বেও আসামির জামিন হয়ে যায়। এ পক্রিয়ায় অনেকে খালাস পেয়ে যান। ফের নতুন উদ্যমে একই অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। অপরদিকে, ভুক্তভোগী যে তথ্য দেন, তা সুবিচার লাভের জন্য যথেষ্ট নয় বলেও মনে করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এসব কারণে মামলায় অগ্রগতিও কম হবে। আসামিদের মুক্তি পাবার এটাই প্রধান কারণ বলে তারা মনে করেন। তারা মনে করেন পাচার ঠেকাতে তৃণমূল পর্যায়ে গণসচেতনতা জরুরি। পাচারকারীচক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমরা প্রশাসনের সাথে একমত পোষণ করেও বলতে পারি পাচার মামলায় দুর্নীতি বন্ধ হলেই নারী-পুরুষ সব পাচারই বন্ধ হয়ে যাবে।