যশোরে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি বানচালে পুলিশের অঘোষিত কারফিউ : সাধারণ মানুষ নাজেহাল

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পূর্বঘোষিত ও অনুমতিপ্রাপ্ত কর্মসূচি বানচালে গতকাল শনিবার পুলিশ যশোরে শহরে অঘোষিত কারফিউ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এতে ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন। বিএনপি অফিসের আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেয়ায় অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নাজেহাল হয়েছেন। বিনা উস্কানিতে পুলিশের এমন মারমুখি আচরণের কারণে সমাবেশ করতে না পারলেও শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিল করেছে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।

গতকাল শনিবার ১ জানুয়ারি ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে সংগঠনের যশোর জেলা শাখা বেলা ২টায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করে। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে পুলিশের বিশেষ শাখার অনুমতি নেন নেতারা। অনুমতি থাকার পরও পুলিশ কর্মসূচি বানচাল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তারা আগের রাতেই বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করাসহ ব্যাপক ভীতি সৃষ্টি করে। সকাল থেকে লালদিঘিরপাড়স্থ জেলা বিএনপি কার্যালয় ও আশপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেয়। তারা কার্যালয়ে প্রবেশের ৫টি পথ তিন স্তরের ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেয়।

প্রথমে পিকআপ ভ্যান, পরে লোহার ব্যারিকেড, সর্বশেষ বেঞ্চ দিয়ে ব্লক করে দেয়া হয় পথ। সেই সাথে পুলিশ লালদিঘীরপাড়স্থ সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। যে কারণে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান। ওই এলাকায় অনেক বিপনী বিতান, বাণিজ্যিক, প্রতিষ্ঠান, তারকা মানের হোটেল, ভ্রাম্যমাণ দোকান ও আবাসিক ভবন রয়েছে। রয়েছে খুচরা ও পাইকারী বিক্রির প্রতিষ্ঠান। পুলিশের অঘোষিত কারফিউ পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতির শিকার হন, তেমনি গৃহবন্দী হয়ে পড়েন আবাসিক ভবনের বাসিন্দারা। জরুরি প্রয়োজনেও তাদের বাসাবাড়ির বাইরে আসতে দেয়নি পুলিশ।

বাইরে থেকে আসা লোকজনকে পায়ে হেটেও চলাচল করতে দেয়নি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গণমাধ্যম কর্মীরাও হয়রানির শিকার হন। দিনব্যাপী পুলিশের এমন কঠোর তৎপরতার কারণে এমএম আলী রোড, এমকে রোড, চৌরাস্তা মোড়, রেল রোড সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখাসহ সংলগ্ন সড়ক সমূহে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ক্রেতা ও বিক্রেতাও জনসাধারণ পুলিশের আচরণকে অঘোষিত কারফিউ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এদিন পুলিশ শহরে উঠতি বয়সের কয়েকজন যুবককে একত্রে দেখলেই লাঠি চার্জ করে। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মাইকপট্টি এলাকায় ছাত্রদল কর্মী ভেবে পুলিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের উপর লাঠিচার্জ করে। চায়ের দোকানে বসে থাকা দোকানি, কর্মচারিরাও ব্যাপক মারপিটের শিকার হন।

মুজিব সড়কস্থ টাউন হল গেটের সামনে থাকা যুবকদের ও মারপিট করে। এমনকি সড়কে চলাচলকারী ইজিবাইক সমূহে উঠতি বয়সী যুবক দেখলেই বাইক থামিয়ে চালকসহ যুবকদের মারপিট করে। একইভাবে চাঁচড়া চেক পোস্ট মোড়ে গণপরিবহন থেকে নামা শহরমুখি, উঠতি বয়সী যুবকদের ছাত্রদল নেতাকর্মী ভেবে ব্যাপক মারপিট করে গোটা এলাকায় তান্ডব সৃষ্টি করে। পুলিশের এমন মারমুখি আচরণে যশোর শহরসহ আশপাশ এলাকায় জনসাধারণের মনে ব্যাপক ভীতি সৃষ্টি করে।

পুলিশের এমন তান্ডব ও ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যেও জেলার ৮টি উপজেলা ও পৌর ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ শহরে আসেন পূর্ব-নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে। চৌগাছা থেকে আসা ৫ শতাধিক নেতাকর্মী পালবাড়ি, এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। মণিরামপুর উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীরা রাজারহাট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। যশোর নগর ছাত্রদল, বড় বাজার, সদর উপজেলা ছাত্রদল, কারবালা, জেল রোড এলাকায় ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

এদিকে পুলিশ রাতভর শহরে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালায়। পুলিশের হাতে রাতেই শংকরপুরের বাসিন্দা জেলা যুবদলের সহসভাপতি সৈয়দ শাহাদাত আলী লিটন, সহসাধারণ সম্পাদক রাজন হাওলাদার মানিক, নির্বাহী সদস্য সৈয়দ এরশাদ আলী লিপ্টন, নগর বিএনপি নেতা সাব্বির মালিক আটক হন। আবার সদর উপজেলাসহ অন্যান্য উপজেলায় দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে পুলিশ বহু নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে। এদিকে বেলা তিনটায় কোর্ট এলাকায় মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক পৌর মেয়র অ্যাড. শহীদ ইবকাল হোসেনের চেম্বারের সামনে থেকে উপজেলার দুই ছাত্রদল নেতাকে আটক করে। পরে পুলিশ তাদেরকে বিভিন্ন পেন্ডিং মামলায় আদালতে প্রেরণ করে। আদালত তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করে।