বিপিএলে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের খরচ ৫-৬ কোটি টাকা, চ্যাম্পিয়ন পাবে ১ কোটি!

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ২০১২ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) যখন শুরু হলো, তখন চারদিকে হৈ হুল্লোড় অবস্থা। ভারতের আইপিএলের আদলে বিপিএল মাঠে গড়ানোর আগেই ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। দলগুলোর নিলাম, খেলোয়াড় নিলাম থেকে শুরু করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করে তাক লাগিয়ে দেয় বিসিবি ও বিপিএল গভার্নিং কাউন্সিল। কিন্তু খেলা শেষ না হতেই বাকির খাতায় নাম উঠায় বিপিএল! ফ্রাঞ্চাইজি ফি, টিভি স্বত্ত্ব, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট থেকে বকেয়া মিলিয়ে কোটি কোটি টাকা বাকির খাতায় জমা পড়ে। তবে আয়োজকরা দলগুলো ও খেলোয়াড়দের হতাশ করেনি। চ্যাম্পিয়ন দলগুলোকে ২ কোটি টাকা প্রাইজমানি দিয়েছে। সঙ্গে টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়কে দিয়েছিল গাড়ি। বিপিএলের প্রথম দুই আসরে এমনটা দেখা গেছে। কিন্তু ধীরে ধীরে বিপিএল যত গোছানো হয়েছে প্রাইজমানি তত কমেছে। সবশেষ ২০১৬ সালে দুই কোটি টাকা প্রাইজমানি পেয়েছিল ঢাকা ডায়নামাইটস। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু বিপিএল জিতে রাজশাহী রয়্যালস কোনো প্রাইজমানি পায়নি। খুলনা টাইগার্সকে হারিয়ে সেবার শুধু আকর্ষণীয় ট্রফি জিতেছে তারা।
২০২২ সালে আয়োজন করা হবে বিপিএলের অষ্টম আসর। এই আসরও হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নামে। এবারের আসরের জন্য আয়োজকরা ১ কোটি টাকা চ্যাম্পিয়নশিপের এবং ৫০ লাখ টাকা রানার্সআপ দলের পুরস্কার ঘোষণা করেছে। কিন্তু এই প্রাইজমানি কি যথেষ্ট? বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন সেই উত্তর দেননি। তবে জানালেন কেন এবার ১ কোটি টাকা প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি বলেছেন, ‘আপনারা জানেন এটা এক বছরের একটি টুর্নামেন্ট। শুরুতে এভাবেই এটা পরিকল্পনা করা। অনেকগুলো বিষয় আছে, যেগুলো আমাদের ইতিপূর্বে যে পরিকল্পনা ছিল সেভাবেই করা।’ বাংলাদেশের মুদ্রায় এবার ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন দলের প্রাইজমানি ছিল প্রায় সাড়ে ৮ কোটি, পিএসএলের প্রায় ৪ কোটি, বিগ ব্যাশের প্রায় ৪ কোটি। আইপিএল তো হিসাবের বাইরে, প্রায় ২৩ কোটি।
বিপিএলে সফলভাবে শেষ করতে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের খরচ হয় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা। অথচ চ্যাম্পিয়ন হলে মিলবে ১ কোটি টাকা! বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিকের বার্তা অবশ্য পরিষ্কার, ‘ক্রিকেটের প্রতি যাদের আগ্রহ বেশি, যারা ক্রিকেটকে ভালোবাসবে তারাই বিপিএলে আসছে। এখানে কোনো ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি নেই। ক্রিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করতে যারা ইচ্ছুক তাদের বেছে নেওয়া হবে।’ তবে প্রধান নির্বাহী আশা দেখালেন ভবিষ্যতে বড় হবে প্রাইজমানির অঙ্ক, ‘বিপিএলের যে মডেল ছিল, সেটা দীর্ঘমেয়াদী একটা মডেল। সেটা আগামীতে আমরা শুরু করব। তখন এই বিষয়গুলোকে আরো বড় আকারে দেখা যেতে পারে।’ ২৭ ডিসেম্বর বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফট অনুষ্ঠিত হতে পারে। আজকালের মধ্যেই বিপিএলের দল এবং ড্রাফটের বাইরের দেশি ও বিদেশি খেলোয়াড়দের তালিকা চূড়ান্ত করবে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল।