দুই সহস্রাধিক ক্রসিং অরক্ষিত

0

সময়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে দেশে রেলপথ বাড়ছে। রেলপথে যাত্রীর চাপ থাকায় বাড়ছে ট্রেনের সংখ্যা। তার চেয়েও বেশি বাড়ছে সড়কপথ। সংগত কারণেই সড়ক ও রেলপথের ক্রসিং বা লেভেলক্রসিংয়ের সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু বেশির ভাগ লেভেলক্রসিংই অরক্ষিত। গেটম্যান নেই, প্রতিবন্ধক নেই। আবার যেখানে গেটম্যান আছে, সেখানেও দেখা যায় দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে। এ কারণে সড়কের পাশাপাশি রেলপথেও বাড়ছে দুর্ঘটনার সংখ্যা। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, গত শনিবার সকালে চট্টগ্রামের খুলশি লেভেলক্রসিংয়ে ডেমু ট্রেনের সঙ্গে অটোরিকশা, টেম্পো ও হিউম্যান হলারের সংঘর্ষ হয়। এতে একজন ট্রাফিক পুলিশ, একজন প্রকৌশলী ও একজন কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত পাঁচজন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। রবিবার সকালে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার খানাবাড়ি রেলস্টেশনসংলগ্ন লেভেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় একজন ইজিবাইকচালকের মৃত্যু হয়। গত সোমবার ভোররাতে নাটোর শহরের তেবাড়িয়া রেলগেটে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের সঙ্গে একটি মিনি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। ট্রাকের চালক ও হেলপার আগেই নেমে যাওয়ায় এখানে কেউ হতাহত হয়নি।
সামনে গাড়ি আছে কী নেই, মানুষ আছে কী নেই, সেসব দেখে ট্রেন চালানো প্রায় অসম্ভব। সে জন্য লেভেলক্রসিংয়ে প্রতিবন্ধক ও গেটম্যান রাখা হয়। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত খবরাখবর থেকে জানা যায়, সারা দেশে লেভেলক্রসিং রয়েছে দুই হাজার ৫৪১টি। এর মধ্যে ১০৪২টি রেলওয়ের অনুমোদিত। এর মধ্যে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য গেটম্যান আছে মাত্র ৩৭১টি লেভেলক্রসিংয়ে। বাকি দুই হাজার ১৭০টি লেভেলক্রসিং অরক্ষিত বা সব সময় খোলা থাকে। দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে অনুমোদিত-অননুমোদিত সবই থাকে অরক্ষিত। ফলে, দুর্ঘটনা ঘটে হরহামেশা। রেল কর্তৃপক্ষ বৈধ-অবৈধ কোনো কোনো ভোটের দায় নিতে রাজি নন। তারা দায় এড়াতে কিছু লেভেলক্রসিংয়ে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে লিখে রাখে, ‘এখানে কোনো গেটম্যান নেই, পথচারী ও সকল যানবাহন চালক নিজ দায়িত্বে পারাপার করুন…।’ মানুষের প্রশ্ন এতেই কি রেলওয়ের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? নিশ্চয় না। গাড়িচালক ও পথচারীদেরও আরো বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। এটা যেমন ঠিক, তেমনি এটাও ঠিক যে, শূন্য গেটে লোক দেয়। রেল কর্তাদের দায়িত্ব এবং তা বৃহত্তর জনস্বার্থে পালন করতে হবে। আমরা আশা করবো, রেল মন্ত্রণালয় বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় এনে সারাদেশে গেটম্যান নিয়োগ দেবে। একই সাথে যারা দায়িত্বে অবহেলা করে মানুষের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।