যশোরে মহিলা দলের সম্মেলনে অধ্যাপক নার্গিস বেগম: বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসায় রাজপথের আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই

মাসুদ রানা বাবু ॥ যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, দেশ বাঁচাতে, মানুষ বাঁচাতে গণতন্ত্রের মা আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির কোন বিকল্প নেই। যিনি নিরাপদ ও আয়েশি জীবন ছেড়ে শহীদ জিয়ার অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়নে ও দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অক্ষ্ণুœ রাখতে রাজনীতিতে এসেছিলেন। জনগণের সকল গণতান্ত্রিক মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া যে লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতিতে এসেছিলেন ক্ষমতার বাইরে থেকেও সে লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। আজ স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকার তার অবৈধ ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রাখতে তাকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে জনগণ ছাড়বে না। এখনো সময় আছে, জনগণের দাবি মেনে নিয়ে গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করুন।

অন্যথায় জনগণের রোষানলে পালানোর পথটিও রুদ্ধ হয়ে যাবে। গতকাল শনিবার জেলা মহিলা দলের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অধ্যাপক নার্গিস বেগম আরও বলেন, আজ এই সরকারের আমলে মহিলারা কতখানি নিরাপদ জীবন-যাপন করছে সেটি বেগম খালেদা জিয়ার দিকে তাকালে বোঝা যায়, তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যখন বিনা চিকিৎসায় তিলে তিলে হত্যা করা হচ্ছে, তখন একজন সাধারণ মহিলা কতখানি নিরাপদ জীবন-যাপন করছে সেটি বুঝতে বাকি থাকে না। যুবলীগ, ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের কারণে ঘরে-বাইরে কোনখানেই মহিলারা নিরাপদ নন।

কোন যুবতী মেয়ে ঘর থেকে বের হলে ইজ্জত সম্ভ্রম নিয়ে ঘরে ফিরতে পারে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রে নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় যুবলীগ, ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা যুবতী মেয়েকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে হত্যা করছে। এই সরকারের আমলে নারীর প্রতি যে পৈশাচিক, নির্যাতন চালানো হচ্ছে তা একাত্তরের বর্বরতাকেও হার মানায়। অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যতবারই ক্ষমতায় এসেছিল নারীদের জীবন ও তাদের সকল অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি নারীদের শিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল জাতিতে পরিণত করেছিলেন। ১/১১ এর অসাংবিধানিক সরকারের সময় বেগম খালেদা জিয়া দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও দাবি তুলেছিলেন। আর আজকের প্রধানমন্ত্রী সেই অসাংবিধানিক সরকারের সাথে আতঙ্কিত করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেছিলেন। তাদের কথিত উন্নয়নের জোয়ারে নাকি দেশ ভাসছে। অথচ, জনগণের পেটে ভাত নেই। তাই, দেশ বাঁচাতে, জনগণ বাঁচাতে তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে তার বিদেশে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মী সম্মেলনে উদ্বোধকের বক্তৃতায় মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তিন বছর পরিবার কিংম্বা দলের সাথে ছিলেন না। তিনি তিন বছর সরকারের হেফাজতে আছেন। তাহলে এই অসুস্থতার দায় সম্পূর্ণ সরকারকে নিতে হবে। তিনি সুস্থ শরীর নিয়ে সরকারের হেফাজতে যাওয়ার পর কেন এই অবস্থা হলো, সরকারকে জবাব দিতে হবে। সরকার কেন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা করাতে দিচ্ছে না। একটাই কারণ, তার শরীরে স্লো পয়জনিং করা হয়েছে কি-না, বিদেশে উন্নত চিকিৎসায় তা ধরা পড়ার ভয়ে। আজ সরকার এতটাই নির্লজ্জ যে, তারা জনগণের ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতা দখল করে, আবার মুখে বলে তারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। তারা এমন কোন নজির দেখাতে পারবে না যে, একজন জনগণ তাদের ভোট দিয়েছে। যে দেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার থাকে না, সেদেশে কোন দিনই গণতন্ত্র থাকে না। এই অবৈধ সরকার জনগণের কাঁতারে আগামী একশ’ বছরেও আসতে পারবে না। তিনি বলেন, সামনে আমাদের লক্ষ্য একটাই, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং এই অবৈধ সরকারকে হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা।
প্রধান বক্তার বক্তৃতায় সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহম্মেদ বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দুঃশাসন ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সন্ত্রাসীদের তান্ডবে দেশ ভরে যায়। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে এই দাবিতে বাংলার নারী সমাজ জেগে উঠেছে। তার মুক্তি ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরব না।
বিশিষ অতিথির বক্তৃতায় মহিলা দলের সহ-সভাপতি নেওয়াজ হালিমা আরলি বলেন, আজ মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। জালিম সরকার তার সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করছে। বেগম খালেদা জিয়ার মতো এক নারীর চিকিৎসার দাবিতে বাংলার লাখ কোটি নারী রাস্তায় নেমেছে। আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত এবং এই অবৈধ সরকারকে উৎখাত করে ছাড়বো। সম্মেলনে জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসিনা ইউসুফের সভাপতিত্বে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য, রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শাহানা রহমান, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তসলিমা বেগম ছন্দা, কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সহ-সম্পাদক ফারিয়া আক্তার, জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদিকা রাশিদা রহমান, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী বেগম, কোতয়ালি থানা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ারা মোস্তফা, মহিলা দল নেত্রী নুরুন্নাহার নুরী, ফরিদা বেগম, নুর জাহান রীনা, পারভিন, ফারজানা ববি, নাজমা সুলতানা, মদিনা বেগম, নাহিদা আক্তার, কর্মী সম্মেলন পরিচালনা করেন নগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুন্নাহার পান্না।

ভাগ