উর্দ্ধমুখি বাজার দরের কাছে চরম অসহায় মানুষ

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু চৌগাছা (যশোর)॥ যশোরের চৌগাছায় সব ধরনের পন্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধির ফলে অসহায় হয়ে পড়েছেন নিন্মআয়ের মানুষ। চাল, ডাল, মাছ, মাংস, ডিম, চিনি, তেল, শাক সবজি, নির্মান সামগ্রী সব কিছুরই দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে দাম বাড়েনি এ ধরনের পন্য খুজে পাওয়ায় মুশকিল অভিমত অনেকের। নিত্যপন্যসহ সব ধরনের পন্য সামগ্রী ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ উপজেলার সচেতন মহল।
শুক্রবার চৌগাছার সাপ্তাহিক হাটের দিন, প্রধান কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, চাল, ডালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি পন্যের দাম কয়েক গুন বেড়েছে। ডিজেল কেরোসিনের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে দাম বেড়েছে সব ধরনের চালের। এদিন বাজারে মোটা ও চিকুন চাল প্রকার ভেদে ১ থেকে ২ টাকা কেজিতে বেশি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। কৃষি প্রধান উপজেলা চৌগাছা, এখানে হাত বাড়ালেই সব ধরনের সবজি পাওয়া যায়। আর শীত মৌসুম এলে তো সবজিতে বড় বাজার থেকে শুরু করে ছোট খাটো হাট বাজার গুলো একাকার হয়ে যায়। সেই চৌগাছাতে শীতের সবজিও বলাচলে সাধারনের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। ১ কেজি ফুল কপি ৪০ থেকে ৬০, বাধা কপি ৪০, লাউ প্রতিটি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সম্প্রতি বৃষ্টিতে মাঠের সবজির ক্ষতি হয়েছে, যার কারনে বাজারে সবজির আমদানি কম তাই দাম বেশি। মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি সব ধরনের মাছের দাম নিন্মআয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। এ ছাড়া শিং মাছ ৩শ থেকে ৫শ, রুই ১৫০ হতে ৬শ, সব ধরনের কার্প জাতীয় মাছ ১২০ হতে ৪শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ভোজ্য তেল, মশলা, ডাল, চিনি সাবানের দাম কয়েক দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিন বাজারে রুপচাঁদা কোম্পানীর ৫ লিটারের এক বোতল সোয়াবিন তেল সাড়ে ৭শ থেকে ৭৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। শীত যত ঘনিয়ে আসছে ততই শীতের গরম কাপড়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। কাপড় ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে শীতের কাপড়ের দাম বৃদ্ধি করেছেন বলে অভিযোগ ক্রেতা সাধারণের। বিশেষ করে ছোট শিশুদের পোষাকের দাম বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিন চৌগাছাতে ১ কেজি খাসির মাংস ৭৫০ টাকা, গরুর মাংস ৫৬০, দেশি মুরগী ৪৫০, সোনালী মুরগী ২৭০, কক ২৮০ হতে ৩০০ আর পোল্ট্রি মুরগী ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের গৃহবধু কোহিনুর খাতুন বলেন, কোন কিছুতে যেন হাত দেয়া যাচ্ছে না। আমার বাবুর জন্য একটি শীতের পোষাক কিনতে এসেছি, কিন্তু ৫শ টাকার নিচে কোন পোষাক হচ্ছে না। এতো দাম হলে আমাদের মত মানুষ কি ভাবে শীতে গরম কাপড় কিনবে। মাধ্যমিক স্কুলে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন বর্তমানে অবসরে আছেন, ওই শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমান বাজার দরের কাছে আমাদের মত মানুষ অসহায়। বেঁচে থাকার তাগিতে খেতে হয়, তাই বাজারের এসেছি। রাজমিস্ত্রির সহকারী আল আমিন বলেন, দিন শেষে ৪০০ টাকা রোজগার করি। এই টাকা দিয়ে চাল তেল মশলা কিনলে আর কিছুই থাকেনা। সেখানে মাছ মাংস কিনবো কি ভাবে।
মুদি ব্যবসায়ী স্বপন কুমার জানান, কোন পন্যই ইচ্ছা করে দাম বৃদ্ধি করা হয়নি। যখন যে ভাবে পন্য কিনতে পারি তখন সেভাবেই বিক্রি করি। বর্তমানে প্রতিটি পন্য বেশি দরে কেনার কারনে বেশিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। নিত্যপন্যের সাথে দাম বেড়েছে নির্মান সামগ্রীর। গত বছর এই সময়ে ১ ট্রাক (২হাজার) ইটের দাম ছিল সাড়ে ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা। এবছর তা বিক্রি হচ্ছে ১৯ থেকে ২০ হাজার টাকায়। মেসার্স মোল্লা বিক্্েরর মালিক রিয়াজুল ইসলাম জানান, গত বছর এই সময়ে ১ টন কয়লা কেনা হতো ৮ হাজার টাকায়, এবছর তা কিনতে হচ্ছে ২৩ হাজার টাকায়। অনেক ভাটা মালিক কয়লার দাম বৃদ্ধির কারনে এখনও ভাটাতে আগুন দেয়নি। বর্তমান বাজার দরে কয়লা কিনতে হলে ২৫ হাজার টাকায় ইট বিক্রি করতে হবে। তা না হলে ভাটা মালিকদের লোকসান গুনতে হবে। রডের দাম কেজিতে ২ টাকা কমলেও দাম বেড়েছে এ্যাঙ্গেল, সিমেন্ট ও টিনের। বর্তমান পরিস্থিতিতে যে কোন মূল্যে নিত্যপন্যের দাম সাধারনের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসি।